২৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:১৭ পিএম

নামের আগে ডাক্তার লেখা নিয়ে রিট নিষ্পত্তিসহ ৩ দাবিতে ইউমবের সমাবেশ

নামের আগে ডাক্তার লেখা নিয়ে রিট নিষ্পত্তিসহ ৩ দাবিতে ইউমবের সমাবেশ
ছবি: আবু সাঈদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডাক্তার পদবী ব্যবহার সংক্রান্ত রিট নিষ্পত্তিসহ তিন দফা দাবিতে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস্ অব বাংলাদেশ (ইউমব)।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসা ও মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা।

ইউমব’র সদস্য ডা. এসএম মামুনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আহ্বায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, ইউমবের মুখপাত্র ডা. মোবারক হোসাইন, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ডা. আব্দুল আহাদ, বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক ফোরাম নেতা ডা. সামিউর রশিদ রিফাত।

সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. রিফাত মাহবুব, প্লাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. দীপ্ত মজুমদার, বাংলাদেশী ফরেন ডক্টরস্ এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. তুহিন মিয়া, সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন ইথিক্স এন্ড রিসার্চ সদস্য ডা. সারওয়ার তুহিন, ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিমের সমন্বয়ক ডা. সোনিয়া জেমিন প্রীতি, বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির (বিএমএসএস) ডিএমসির লোকাল কোঅর্ডিনেটর নাহিয়ান ইসলাম হৃদি। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ইউমবের সেন্ট্রাল সদস্য মেহেদী হাসান, ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সেক্রেটারিয়েট মেম্বার জিনান বিন নূর প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্য অব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, যে কেউ চাইলেই তার নামের সামনে ডাক্তার শব্দটি জুড়ে দিতে পারে, পড়তে পারে চিকিৎসকদের সাদা এপ্রোন, নূন্যতম এনাটমির জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও হরহামেশা করতে পারে আলট্রাসনোগ্রাম। যত্রতত্র ঔষধের ব্যবহার আজ এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, সাধারণ রোগ জীবাণু ও আজ  এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে পড়েছে। মধ্য শিক্ষিত, অশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্রমাগত হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

তারা বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ফার্মেসি বা ক্লিনিকে  চিকিৎসা দেয়া হয়। এ কারণে অনেক রোগীর অঙ্গহানি ও মৃত্যু হচ্ছে। মূলত তিন-ছয় মাসের কোর্স ডিপ্লোমাধারীরাই এসব কাজ বেশি করেন। আবার অনেকে না জেনেই নামধারী 'হাতুড়ি' ডাক্তারের কাছে যান। একপর্যায়ে সব হারিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। তখন আর কিছুই করার থাকে না। তাই অপচিকিৎসা না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগীদের আসা উচিত। তাহলেই ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম কমবে।

তারা আরও বলেন, দু-একটি ওষুধের নাম জানা থাকলেই এখন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেন অনেকে। অথচ তাদের কোনো ডিগ্রি বা পড়াশোনা নেই। আর এমন ভুয়া ডাক্তারদের কারণে প্রতিনিয়ত রোগীরা নানান ভোগান্তিতে পড়েন। ভুল চিকিৎসার ফলে কেউ কেউ মারাও যান। তাই ডাক্তার পদবি ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট আইন চাই এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না।

বক্তারা আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০১০ সালে প্রণীত বিএমডিসি আইনের আজ অবধি কোনো বাস্তব প্রয়োগ আমরা পাই নাই। আইন প্রণীত হওয়ার ১৫ বছর পর তাই এই আইনের যথাযথ ও বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ চাওয়া আজ, তাই দাবী নয় বরং ন্যায্য অধিকার। এই ন্যায্য অধিকারে হিস্যা আমরা তো পাই নাই বরং ২০১৩ সালে কয়েকজন স্যাকমো (SACMO) আদালতে একটি রিট (২৭৩০/২০১৩) দায়ের করে এবং এই রিটের রেফারেন্সে অচিকিৎসকরা তাদের নামের সামনে ডাক্তার লিখে যাচ্ছে। ২০১৩ সালে করা সেই রিট পিটিশন নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সাল অবধি মোট ৬৬ বার কজ লিস্টে আসলেও মূল শুনানির জন্য কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গৃহীত হয় নাই। আগামীকাল ২৭ ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রিটের ৬৭ তম শুনানি হতে যাচ্ছে। এত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আজকের এই নতুন বাংলাদেশেও যদি সমাধান না হয়, তা দেশের সচেতন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং জনতা কখনোই মেনে নিবে না ।

তিন দফা দাবি

১. ডাক্তার পদবী ব্যবহার সংক্রান্ত আইন বিরোধী এবং অযৌক্তিক ২৯৩০/২০১৩ রিটটি অনতিবিলম্বে নিষ্পত্তি করে ২০১০ সালে প্রণীত বিএমডিসি আইন-২০১০ এর সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. নূন্যতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি প্রাপ্তরা ব্যতিত অন্য কেউ যেন ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন- ২০২৪ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশের উপর যে পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে আগামী এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ইউমব
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক