সিওমেকে চিকিৎসকদের উপর হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি ইউমবের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিওমেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের উপর বহিরাগতদের হামলায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সংগঠন ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশন্স অব বাংলাদেশ (ইউমব)। বুধবার (২৬ মার্চ) এক জরুরি বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইউমবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত আশঙ্কার সাথে জানানো হচ্ছে যে, গত ২৪ মার্চ সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত একপক্ষের কিছু ব্যক্তি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ তাদেরকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই অপরপক্ষের সন্ত্রাসীরা হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করে চিকিৎসা কাজে বাধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এতে কর্তব্যরত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও ও আনসার সদস্য আহত হন। আমরা, দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সকল সংগঠন এ সন্ত্রাসী হামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করছি। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, তাতে চিকিৎসক সমাজ সংক্ষুব্ধ।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে এর আগে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসক সমাজের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং এগুলোর কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার হয়নি কেননা স্বাস্থ্যখাতের নিরাপত্তা সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কোনো আইন এ দেশে নেই। বিশেষত সিওমেকে গতকালকের সন্ত্রাসী হামলা এবং অতি সম্প্রতি কুমেকহাতে মিথ্যা অভিযোগে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে চিকিৎসক সমাজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চিকিৎসকবৃন্দ যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে নিরাপত্তাহীনতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন, যা এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। তদুপরি, স্বল্প সময়ের মধ্যে পরপর দুটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা চিহ্নিত করে দেয় যে, দেশের স্বাস্থ্যখাত এই মুহূর্তে মোটেও নিরাপদ নয়। এমতাবস্থায় দেশের সর্বস্তরের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীবৃন্দের দাবি স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ, যা চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে, অর্জন করা সম্ভব।
সরকারের কাছে চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সকল সংগঠনের পক্ষে সম্মিলিত দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিওমেকহাতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির সম্মুখীন করা হোক। একইসাথে, যেন দেশের চিকিৎসক সমাজকে চিকিৎসা প্রদানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে না হয়, যেন দেশের আর কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কোনপ্রকার হামলার ঘটনা না ঘটে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে সংশ্লিষ্ট কাউকেই আতঙ্কে দিনাতিপাত করতে না হয়, এ জন্য সুষ্ঠুভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে সেবাদানে নিরাপত্তার বিধান করে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে ইউমবের বিবৃতি।
এসএইচবি/