অবিলম্বে ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত রিট নিষ্পত্তির আহ্বান ইউমবের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষ হওয়ার পরও রায় প্রদানে ‘অযাচিত কালবিলম্বে’ ক্ষুব্ধ হয়েছেন চিকিৎসকরা। অনতিবিলম্বে এই রিট নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আজ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস্ অব বাংলাদেশের (ইউমব) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
আদালত ও ইউমব সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে বর্তমানে তিনটি রিট চলমান। এগুলো হলো—ডাক্তার পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত ২৭৩০/২০১৩, ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত ‘বিএমডিসি অ্যাক্ট ২০১০ এর ধারা ২৯’কে চ্যালেঞ্জ করে ১৩০৪৬/২০২৪ এবং আপডেটেড ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার বৈধতা চেয়ে ১৩৪৬২/২০২৪।
এসব রিটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করার জন্য আদালতে একটি রিট করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বেআইনিভাবে তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে দেশের সর্বস্তরের জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। বিগত ১৩ বছরে ৯০ বার কজ লিস্টে আসার পর, এমনকি শুনানির পর্ব গত তিন মাস আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নানাবিধ অদৃশ্য কারণে এই রিটের রায় প্রদান করা হচ্ছে না। এভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রিটকে বারবার পেছানোর মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষকে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির মৌলিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
এতে বলা হয়, ‘যারা ডাক্তার না, তারা নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করে চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করে যাচ্ছেন। ফলস্বরূপ অবাধে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা এ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবাধে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সাধারণ জনগণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে নানাবিধ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এভাবেই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে দেশের জনসাধারণ, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন রাষ্ট্রের সকল সেক্টরকে নিয়মতান্ত্রিক আর সুশৃঙ্খল করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার অন্যতম কারণ এই অ-চিকিৎসকদেরকে চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা দেওয়া এই দেশে কখনোই কাম্য নয়।’
এদিকে গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ রিটের সর্বশেষ শুনানিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিনই সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের বেঞ্চ।
আদালতের আদেশ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়,‘ দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট, বর্তমানে বিদ্যমান আইনসিদ্ধ এবং ২০০৭ সালেই আদালতে সমাধিত এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে রায় প্রদানে লাগামহীন দীর্ঘসূত্রিতা আমরা আর দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে এই রিটের নিষ্পত্তিকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের নিকট আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় দেশের সচেতন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনতা ক্রমান্বয়ে আদালত এবং সরকারের উপর আস্থা হারাতে বাধ্য হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য পৃথিবীজুড়ে চিকিৎসকদের চিকিৎসা কর্মে সহায়তার জন্য অ্যালাইড হেলথ প্রফেশন রয়েছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, ‘যেখানে (অ্যালাইড হেলথ প্রফেশন) নার্স, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও মিডওয়াইফসহ নির্দিষ্ট কিছু জনশক্তি রয়েছে—যারা নির্দিষ্ট কর্ম বাস্তবায়ন করে থাকেন। প্রত্যেকের উচিত তাদের নিজস্ব অবস্থানের স্বকীয়তা বজায় রেখে নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন করা। চিকিৎসক বাদে কেউ নিজেদেরকে চিকিৎসক হিসেবে দাবি করে বসলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধসে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
এনএআর/