ডা. মুনিম রেজা
সহকারী অধ্যাপক, মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০৪:০৬ পিএম
হেডফোন কানে রেখে ঘুম ভালো হয়?
আপনি একটু কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ঘুমাচ্ছেন, সে সময় যদি কানে ইয়ারফোন, ইয়ারবাড বা হেডফোন দিয়ে প্রশান্তিময় কোন কিছু শোনেন, তাহলে এটি আপনার ঘুমের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে এখানে আপনাকে একটি ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, শব্দ যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়। অতিরিক্ত বলতে তা যেন ৬০ থেকে ৮০ ডেসিবলের বেশি না হয়।
এই মাত্রাটি কেমন? ধরুন, কোনো জায়গায় ব্লেন্ডার (খাদ্য প্রস্তুতির যন্ত্র) চালু করা হলো, তাতে যে মাত্রার শব্দ হবে অথবা মুঠোফোনের রিংটোনে যে শব্দ হয় বা আপনি বাইরে গেলে রাস্তার পারিবেশে যে শব্দ হয়—গাড়িঘোড়া, অনেক লোকজন বা ভীড় আছে, সেখানকার শব্দের পরিমাণ ৬০ থেকে ৮০ ডেসিবলের মধ্যে থাকে। এরকম সমপরিমাণ মাত্রায় থাকলে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে এর তুলনায় বেশি মাত্রার শব্দ ক্ষতিকর হবে।
ক্ষতিকর কিসের জন্য হবে? উত্তর হচ্ছে—আপনার কানের জন্য হবে। দীর্ঘ সময় যদি আপনার কানের সাথে এ ধরনের শব্দ মিশে থাকে, তাহলে আপনার শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য কেউ যদি ঘুমের সময় কানে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড লাগিয়ে ঘুমাতে চান, তাকে অবশ্যই ব্যাপারটা খেয়াল রাখতে হবে। এখানে সমস্যা ঘুমের ক্ষেত্রে হবে না, সমস্যা হবে কানের শ্রবণের ক্ষেত্রে।
আরেকটি বিষয় বলা যায়, কেউ যদি দীর্ঘ সময় কানে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড রাখেন, তাহলে কানে প্রাকৃতিকভাবে যে পদার্থগুলো তৈরি হয়—যা কান থেকে বের হয়ে যাওয়া দরকার, সে পদার্থগুলো স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না; তখন কানে ময়লা জমে যেতে পারে এবং সেখান থেকে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ব্যাপারগুলো একটু খেয়াল রাখলে আর চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।
এসআই/এনএআর/
-
০৬ মার্চ, ২০২২