জাতিসংঘের প্রতিবেদন
চরম দারিদ্রে বিশ্বের ১১০ কোটি মানুষ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্বজুড়ে ১১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের প্রায় অর্ধেকই যুদ্ধ-সংঘাত লেগে থাকা দেশের বাসিন্দা। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। খবর আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ইউএনডিপির ‘বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক-২০২৪: সংঘাতের মধ্যে দারিদ্র্য’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে দারিদ্র্যের স্তর অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসব দেশে পুষ্টি, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে।
ইউএনডিপির বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বিশ্বের ১১২টি দেশের ৬৩০ কোটি মানুষের ওপর যৌথ গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ১১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে বসবাস করছে, যাদের মধ্যে ৪৫ কোটি ৫ লাখ মানুষ সংঘাতের ছায়ার মধ্যে রয়েছে।
সূচকে দেখা গেছে, প্রায় ৫৮ কোটি ৪ লাখ শিশু চরম দারিদ্র্যে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের মধ্যে এই হার ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এর তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর হার ৮ শতাংশ, যেখানে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোতে এই হার ১ দশমিক ১ শতাংশ।
এছাড়া এই গবেষণায় উঠে এসেছে বিশ্বের চরম দারিদ্র্যে বাস করা প্রায় অর্ধেক মানুষই ভারতে। দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ২৩ কোটি ৪০ লাখই চরম দারিদ্র্যে দিন কাটায়। ভারতের পরে রয়েছে পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। দারিদ্রে দিন কাটানো ১১০ কোটি মানুষের প্রায় অর্ধেক এই পাঁচ দেশের।
ইউএনডিপির আছিম স্টেইনার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতগুলো আরও তীব্র ও বহুমুখী হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং জীবনযাত্রা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে।
প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের অবস্থা গুরুতর। বাংলাদেশে দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে মানুষের জীবনযাত্রার মান (৪৫ দশমিক ১ শতাংশ)। এরপর রয়েছে শিক্ষা (৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ) ও স্বাস্থ্য (১৭ দশমিক ৩ শতাংশ)।
এনএএন/