‘মেডিকেল কলেজ খুলতে সময় লাগবে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে সংঘাতের কারণে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ হয়ে যাওয়া মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দিতে সময় লাগবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলে মেডিকেলগুলোও খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে মেডিকেল শিক্ষা অন্যদের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় এ ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পরামর্শ দেবেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে আগামীকাল রোববার (২৮ জুলাই) আলোচনা হতে পারে। এক্ষেত্রে সংঘাতের মুখে দেশে ফিরে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা সময়সাপেক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন তারা।
আজ শনিবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা
মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা করছেন কি-না, মেডিভয়েস তরফে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞার কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই এ রকম ভাবছি না। অফিস খোলা হলে এ নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। মেডিকেল কলেজগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কার্যক্রম হয়, শিক্ষার্থীরাও ওই পর্যায়ের। সুতরাং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম কখন শুরু হবে, সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। অবশ্যই মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং জাতীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা চিন্তা-ভাবনা করবো।’
‘অবশ্য যারা সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেমন—ইন্টার্ন চিকিৎসক, তারা কাজ করছেন। অন্যান্য চিকিৎসকরাও কাজে যুক্ত আছেন। আমাদের ফ্যাকাল্টিরা (শিক্ষক) নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসছেন, কাজ করছেন। কলেজের অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে। ল্যাব-ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমও চালু আছে’—যোগ করেন অধ্যাপক টিটো মিঞা।
কার্ফিও বিবেচনায় সিদ্ধান্ত
কার্ফিওতে পরিবহন সংকটসহ নানা অনিশ্চয়তায় দূরের শিক্ষার্থীরা বাসায় যেতে পারেননি, আবার যখন-তখনই ক্লাস শুরু হতে পারে—এই ভাবনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তারা গ্রামমুখী হচ্ছেন না। এসব শিক্ষার্থী এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন।
এমন প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘আসলে এখনো কার্ফিও বিদ্যমান আছে। সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমেই আমরা চিন্তা-ভাবনা করবো। পরিপূর্ণ একটা স্থিতিশীল অবস্থা হলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কত তাড়াতাড়ি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়।’
শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সময়োপযোগিতা জানতে চাইলে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থা সন্তোষজনক আছে। এখানে কোনো ঝামেলা হয়নি। তবে যেভাবে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে।’
রোববার খোলার বিষয়ে আলোচনা
ক্লাস চালুর বিষয়ে আপনাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার একটি মিটিং ছিল। সেখানে এই প্রসঙ্গটি উঠেনি। মিটিংয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল অফিস খোলার পর এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। গত পরশু শিক্ষামন্ত্রী বললেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে। শুরুতে স্কুল, তার পর মাধ্যমিক ও পরে কলেজ খুলে দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়ার কোনো নির্দেশনার কথা আমরা শুনিনি। কার্ফিও যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি শিথিল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। সুতরাং অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। মেডিকেলগুলো বন্ধ হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়। এটা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করেনি। তাদের নির্দেশনাতেই খোলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা হলেই মেডিকেল কলেজগুলো খোলার চিন্তা করা সম্ভব হবে। স্কুলগুলো খুলে গেলে মেডিকেল নিয়ে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমরা কথা বলতে পারবো। কারণ মেডিকেলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মেলালে চলবে না। মেডিকেলের শিক্ষা কার্যক্রম আসলে ভিন্ন।’
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ
চলতি সপ্তাহে খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মনে হয় না। বিদেশি শিক্ষার্থীরা ফিরে গেল। আমরা তাদেরকে কোনো দিক-নির্দেশনা দিতে পারিনি। তারা পয়সা খরচ করে গেল, আবার আসবে। তাদের ক্যাম্পাসে ফেরানোর সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। ওরা মাত্র গেল।’
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতার কারণে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত ১৭ জুলাই কমিশনের দেওয়া এ নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস্তবায়নের উল্লেখ করা হয়।
এর আগের দিন ১৬ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একই দিন রাতে অধিভুক্ত সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময়ে আলাদা আলাদা নোটিসে স্থগিত করা হয় সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের বিভিন্ন দিনের পরীক্ষা।
এমইউ/
-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২০ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৬ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৫ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৮ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৪ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০২ অগাস্ট, ২০২৪