০৯ জুলাই, ২০২৪ ০৯:৫৩ পিএম

এডহক নিয়োগ ও এনক্যাডারমেন্ট বাতিলের দাবি স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের

এডহক নিয়োগ ও এনক্যাডারমেন্ট বাতিলের দাবি স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিভিন্ন পদে চাকরিবিধির গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়ে নিয়োগবিধির আওতায় নিয়োগ পাওয়া এডহক ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে এডহক নিয়োগ ও এনক্যাডারমেন্ট বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা দেশের বিদ্যমান আইনবিধির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। দেশের প্রত্যন্ত ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র পর্যন্ত পদায়ন হওয়া এই ক্যাডারের প্রায় ৩৫ হাজার কর্মকর্তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড। ক্যাডার সার্ভিস গঠন হওয়ার পর থেকে বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা দেশের মানুষকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছি। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবত সরকারি চাকরিবিধির গুরুতর লঙ্ঘন করে ক্যাডার পদগুলোতে ভিন্ন নিয়োগবিধির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত এডহক ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের কিছু দুষ্কৃতিকারী কর্মকর্তারা এই কাজ করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় প্রায় হাজার খানেক ভুয়া পদোন্নতি, জনপ্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় ৫ শতাধিক ভুয়া পদায়ন এবং ক্যাডার কর্মকর্তাকে এডহকদের অধীনস্থ করা হয়েছে। এর ফলে আমরা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে ২০২২ সালে মামলা দাখিল করতে বাধ্য হই। মামলায় রুল জারি করা থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত অনিয়মকারী শাখার কর্মকর্তারা এডহক ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের পক্ষে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত পদোন্নতি ও পদায়নের আদেশ জারি করে।’

ডা. নেয়ামত হোসেন আরও বলেন, ‘এসব অনিয়মের মাঝেই বিগত ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরপর পাঠানো মোট ৩টি পত্র আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এতে আমরা হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। অসংখ্য ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য, তথ্য গোপন ও ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার-২ শাখার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা এডহক ও প্রকল্প তথা ২০২২ সালে এনক্যাডার হওয়া কর্মকর্তাদের পক্ষে চাকরিতে পদোন্নতির জন্য সব ধরনের পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ মাফ করে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা জানান, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো পত্রে ইতোমধ্যে দেওয়া বিতর্কিত পদোন্নতিগুলোকে অবৈধ বলে স্বীকার করে নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পত্রে তাদেরই করা অনিয়ম স্বীকার করে নেওয়া নজিরবিহীন। সেখানে বলা হয়, যদি এডহক এনক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরিতে স্থায়ীকরণের জন্য ক্যাডারের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় পরীক্ষা ইত্যাদি প্রমার্জনা না দেওয়া হয়, তাহলে প্রমার্জনার পরে পুনরায় তাদের পদোন্নতিতে পদোন্নতি পরীক্ষা হতে প্রমার্জনা না দেওয়া হলে আগে দেওয়া সকল পদোন্নতি প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আমরা জানতাম, চাকরিতে অনিয়মকারীকে শাস্তি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিজেই দোষ স্বীকার করে উল্টো অতীতের অনিয়মের প্রমার্জনা চাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এভাবে এতোগুলো প্রমার্জনার ফাইল সৃষ্টি হওয়া নজিরবিহীন এবং এধরনের ন্যক্কারজনক অনিয়মের ঘটনা বাংলাদেশের প্রশাসন জগতের ইতিহাসে এই প্রথম। এসব কর্মকর্তা সকলেই বিসিএস এ ফেল করেছিলেন। একদল চাকরিজীবী যারা তাদেরই নিয়োগবিধির শর্ত পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করেই স্থায়ী হয়েছিলো, যারা তাদের সমগ্র চাকরিজীবনে কখনো কোনো পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেয়নি, যারা বিসিএস এ অকৃতকার্য হয়েও এনক্যাডার হয়েছে, এনক্যাডারের পরে পুনরায় বিসিএস ক্যাডারের ৫টি শর্ত হতে কেন মাফ পাবে। একইসঙ্গে বিসিএস পাস করাদের থেকে উপরে স্থান পাবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ অবস্থায় সব ধরনের অবৈধ পদোন্নতি ও পদায়ন বাতিল করে চলমান প্রমার্জনার সব প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক