চিকিৎসকের মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে ফল উপহার দিলেন বৃদ্ধ রোগী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকের মানবিক আচরণ ও আন্তরিক সেবায় মুগ্ধ হয়ে তাঁর জন্য মৌসুমি ফল কিনে উপহার দিয়েছেন এক বৃদ্ধ রোগী। চিকিৎসা শেষে এক রোগীর ব্যতিক্রমী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা ওই বৃদ্ধ রোগী চিকিৎসকের ব্যবহার, আন্তরিকতা ও মানবিক সেবায় এতটাই মুগ্ধ হন যে, চিকিৎসা শেষে নিচে গিয়ে নিজের উদ্যোগে মৌসুমি ফল কিনে এনে চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। শুধু চিকিৎসকের জন্যই নয়, তাঁর চেম্বারের সহকারীদের জন্যও ফল কিনে দেন তিনি।
সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা এ দৃশ্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই ঘটনাটিকে চিকিৎসক-রোগীর পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, ওই চিকিৎসকের নাম ডা. আসাদুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় কর্মরত। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তিনি নিজেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন।
ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে ডা. আসাদুজ্জামান চৌধুরী লেখেন, কয়েকদিন আগে এক নারী রোগী নিজের হাতে রান্না করা খাবার এনে দিয়েছিলেন। আর এবার এক বৃদ্ধ রোগী জোর করেই মৌসুমি ফল খাইয়ে গেলেন। শুধু তাঁর জন্য নয়, চেম্বারের সহকারীদের জন্যও ফল কিনে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। রোগীদের এমন ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাঁকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ইতিবাচক মন্তব্য করেন। অনেকেই লেখেন, সব চিকিৎসককে এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়। কেউ বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অর্থ নয়; বরং রোগীর মুখের হাসি, ভালোবাসা ও দোয়া। আবার অনেকে মন্তব্য করেন, সম্মান দিলে সম্মান ফিরে আসে এই ভিডিওটি তারই বাস্তব উদাহরণ।
মো. মুক্তার হোসাইন নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘স্যার, আপনি মানুষের যে ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেছেন, তা কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, সেটিই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একদিন আমাদের সবাইকেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আপনার মানবসেবা, মানুষের উপকার এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কাজ মানুষের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।’
এমআই/