০১ জুলাই, ২০২৪ ০৯:৩৭ পিএম

ঢাকার বাইরেও ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু, মৌসুমের আগেই ৪৪ মৃত্যু

ঢাকার বাইরেও ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু, মৌসুমের আগেই ৪৪ মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাধারণত জুলাই থেকে ডেঙ্গুর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু মৌসুমের আগেই এডিস মশার ছোবলে হারিয়েছে ৪৪ প্রাণ। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার এবার কিছুটা কমেছে, তবে ডেঙ্গু ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে ঢাকার বাইরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ বিভিন্ন বিভাগের আক্রান্তের হার। তবে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সিংহভাগই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৬৫১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৭৬ জন আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে। মৃত্যুও হয়েছে বেশি এখানেই, মোট ৩৫ জনের।

যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৩১ আক্রান্ত ও পাঁচজনের মৃত্যু, দক্ষিণ সিটিতে ৭৬৪ আক্রান্ত ও সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু এবং মহানগরের বাইরে ৪৮৩ জন আক্রান্ত এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর পরেই আক্রান্তের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। ওই বিভাগে মোট আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এর মধ্যে নগরে ৪৫ জন আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা সিটির বাইরে।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৪ জন, মৃত্যু হয়েছে আট জনের। অন্যান্য বিভাগে মৃত্যু না থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আক্রান্তদের মধ্যে গাজীপুর সিটিতে তিনজন, খুলনা বিভাগে ১৯৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৩, রংপুর বিভাগে ২১, সিলেট বিভাগে ১১ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হন মোট সাত হাজার ৯৬৮। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন আক্রান্ত হন জুন মাসে। ওই মাসেই সর্বোচ্চ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

এর বিপরীতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হন তিন হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে গত বছরের রেশ ধরে জানুয়ারিতেই সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মাসে মোট এক হাজার ৫৫ জন আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১৪ জন।

এরপর ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৯ জন আক্রান্ত ও তিন জনের মৃত্যু, মার্চে ৩১১ জন আক্রান্ত এবং পাঁচ জনের মৃত্যু এবং এপ্রিলে ৫০৪ জন আক্রান্ত এবং দুই জনের মৃত্যু হয়। প্রথম চার মাসের হিসাব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হলেও মে থেকে তা কমতে শুরু করে। যেখানে গত বছর মে মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছিল এক হাজার ৩৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হন ৬৪৪ জন। তবে এবার ১২ জনের মৃত্যু হয়।

আর সদ্য জুন মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। অপরদিকে গত বছর এই মাস থেকেই ছোবল বসাতে শুরু করেছিল ডেঙ্গু। সেবার জুন মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়, আর আক্রান্ত হয়েছিলেন পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক কমলেও এবারও গত বছরের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দায়িত্বশীল মহল বলছে, সেদিক থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ, ২০২৩ সালে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন লক্ষ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর মৃত্যুর হার ছিল ০.৫ শতাংশ।

তবে ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সর্বোচ্চ রিপোর্ট আসে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে। ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার পর জুলাই মাসে মোট আক্রান্ত হয় ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ২০৪ জনের। আগস্টে ৭১ হাজার ৯৭৬ আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যু হয় ৩৪২ জনের।

ওই বছর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বরে। ওই মাসে ৭৯ হাজার ৫৯৮ জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ৩৯৫ জনের। এভাবে অক্টোবরে ৬৭ হাজার ৭৬৯ আক্রান্ত ও ৩৫৯ মৃত্যু, নভেম্বরে ৪০ হাজার ৭১৬ আক্রান্ত ও ২৭৪ মৃত্যু এবং ডিসেম্বরে নয় হাজার ২৮৮ জন আক্রান্ত ও ৮৩ জনের মৃত্যু হয়।

গত পাঁচ বছরের হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন, ২০১৯ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় এক লক্ষ এক হাজার ৩৫৪তে। পরের তিন বছর তুলনামূলক কমে আসে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ২০২০ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪০৫ জন। ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ এবং ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডেঙ্গু
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক