জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ
কৃমিনাশক ওষুধ পাচ্ছে চার কোটি শিশু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলছে ২৯তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ। ২৩ মে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে বুধবার (২৯ মে) পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ মেবেনডাজল বা ভারমক্স ৫০০ মি.গ্রা. সেবন করানো হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দেশের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫-১৬ বছর বয়সী শিশুদের ভরা পেটে এই ওষুধ সেবন করাবেন খুদে ডাক্তাররা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃমি মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ছোট এক পরজীবী। যার পেটে বসবাস তার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করলেও খোদ তাকেই ভোগায় অপুষ্টিতে। ছোট হলেও মোটেও তুচ্ছ ভাবার মতো নয় কৃমি। এই পরজীবীকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করতে না পারলে মেধায় পিছিয়ে যাবে আগামী প্রজন্ম।
কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা।
এ দিন ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একটি কর্ম-পরিকল্পনা হচ্ছে ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে ৫-১৬ বছর বয়সী চার কোটি শিশুকে এক ডোজ কৃমি নাশক ওষুধ ভরা পেটে সেবন করানো হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণ বেশি দেখা যায় (০-৪ বছর ৭ শতাংশ, ৫-১৪ বছর ৩২ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর ১৫ শতাংশ, ২৫-৪৪ বছর ৭ শতাংশ, ৪৫-৫৪ বছর ৫ শতাংশ, ৫৫ বছরের অধিক ৪ শতাংশ)।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০৫ সালে প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে জুন ২০০৭ পর্যন্ত ১৬ জেলায়, মে ২০০৮ পর্যন্ত ২৪ জেলায় ও নভেম্বর ২০০৮ থেকে ৬৪টি জেলায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। এ কর্মসূচির ফলে ২০০৫ সালে যেখানে শিশুদের মল পরীক্ষায় কৃমির উপস্থিতি ছিল ৮০ শতাংশ, ২০১৮-১৯ সালের জরিপে তা কমে ৮ শতাংশে নেমে আসে।
এ ছাড়া বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক (সরকারি, বেসরকারি, ফরমাল, নন-ফরমাল স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব) এবং প্রায় ৩৩ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চলছে। প্রত্যেক রাউন্ডেই সফলতা ৯৫-৯৮ শতাংশ।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেন, কৃমি অবস্ট্রাকশনের (অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা) অন্যতম একটি কারণ। মানুষের অন্ত্রে বসবাস করে, তার খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে নিজেরা হৃষ্টপুষ্ট হলেও খোদ মানুষকে অপুষ্টিতে ভোগায়। বিশেষ করে শিশুরা এবং প্রজননক্ষম নারীরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। পেটের পীড়া, বদহজম, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, রাতকানা রোগ, রক্ত স্বল্পতা কৃমি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয় কৃমি সংক্রমণের কারণে।
তিনি বলেন, ছোট হলেও কৃমিকে তুচ্ছ ভাবা উচিত হবে না। অবহেলা করলে আমাদের আগামী প্রজন্ম মেধায় পিছিয়ে থাকবে। শিশুদের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নিজ ব্যবস্থাপনায় কৃমি নাশক ওষুধ সেবন করতে হবে। অন্যথায় দেশ থেকে কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে না। নিয়ম করে প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর কৃমি নাশক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিজ বাসস্থান ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিশেষ করে পয়ঃপ্রণালী বা স্যানিটেশনের উন্নতি করতে হবে। তা না হলে কৃমির বংশবৃদ্ধি ও তার দ্বারা সংক্রমণ চলমান থেকে যাবে।
অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, সারাদেশে একযোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫-১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে কৃমি নাশক ওষুধ সেবন করানো একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ কাজে সহায়তা করছে সারাদেশের দেড় লক্ষাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
এনএআর/এএনএম
-
১ ঘন্টা আগে
-
০৯ জুন, ২০২৬
-
০৯ জুন, ২০২৬
-
০৮ জুন, ২০২৬
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
-
০৬ জুন, ২০২৬
-
০৫ জুন, ২০২৬
-
০৪ জুন, ২০২৬
-
০২ জুন, ২০২৬