১১ মার্চ, ২০২৪ ০৮:৪৭ পিএম

অর্ধযুগ পর রমেক হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু, রিং স্থাপন

অর্ধযুগ পর রমেক হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু, রিং স্থাপন
ডা. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ছয় বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব পুনরায় সচল করেছি।’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অর্ধযুগ পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু করা হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসার স্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ২০১১-১২ অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগে প্রথমবার চালু করা হয় ক্যাথল্যাব। প্রথম দিকে কয়েক বছর ল্যাবটি ভালোভাবেই চলেছে। তবে বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে এটি। মেরামতের পর আবার তা সচল হয়েছে। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে বন্ধ ছিল ল্যাবটি। এ সময়ে হাসপাতালটিতে এনজিওগ্রাম, রিং স্থাপনসহ হার্টের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাও বন্ধ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুরনো একটি এনজিওগ্রাম মেশিন দিয়ে পুনরায় ল্যাবটি চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হার্টের এনজিওগ্রাম, হার্টের রক্তনালিতে স্টেন্ট (রিং) বসানো এবং পেস মেকার স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা আবারো শুরু হয়েছে। এতে হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমে আসবে।

রমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগে প্রথমবার ক্যাথল্যাব চালু হয়। সেই সময় দেড় শতাধিক এনজিওগ্রাম, রিং বসানো এবং পেসমেকার স্থাপন করেছেন চিকিসকরা। তবে কভিডের কারণে তিন বছর এবং মেশিন নষ্টসহ বিভিন্ন কারণে মোট ছয় বছর ক্যাথল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নতুন করে ল্যাবটি চালু হওয়ায় হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমেছে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালে হার্টের এনজিওগ্রাম করতে খরচ হয় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। তবে সরকারি হাসপাতালে খরচ হয় ২ হাজার টাকা। একেকটি রিং ক্রয় করতে ৭০ হাজার থেকে প্রকারভেদে দেড় লক্ষ টাকা লাগে। রিং বসাতে সরকারি হাসপাতালে খরচ হয় ২ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে রিং বসানো চার্জ ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা এবং পেসমেকার যন্ত্রের দাম দেড় লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। পেসমেকার স্থাপনে বেসরকারি হাসপাতালে খরচ হয় ৬০ হাজার টাকার বেশি। সেখানে সরকারি হাসপাতালে খরচ হয় ২ হাজার টাকা।

রমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ছয় বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব পুনরায় সচল করেছি। হার্টের সর্বোচ্চ এবং আধুনিক চিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা ক্যাথল্যাবে দেয়া সম্ভব। এখন রংপুরের হৃদরোগীদের আর ঢাকা অথবা দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কম খরচে এনজিওগ্রাম, রিং বসানো এবং পেসমেকার স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রমেক হাসপাতালে হচ্ছে। বর্তমানে একটি মাত্র পুরনো এনজিওগ্রাম মেশিন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

এছাড়া প্রতিদিন ক্যাথল্যাব চালু রাখার সক্ষমতা থাকলেও একজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে সপ্তাহে মাত্র দুদিন চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান ডা. মাহবুবুর রহমান। তিনি আরও বলেন, ক্যাথল্যাব সবসময় সচল রাখার জন্য দুটি মেশিন এবং দুজন টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। যাতে একটি মেশিন খারাপ হলে অন্যটি দিয়ে কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্যাথল্যাবে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। ফিলিপস কোম্পানির মাধ্যমে ল্যাবটি সচল করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যাতে ল্যাব সচল থাকে, এজন্য কোম্পানিটির সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স কেয়ার (সিএমসি) চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক