মানবিক চিকিৎসক মহসীনের অভানীয় সাফল্য
মমেকে ১ দিনে সাত রোগীসহ ১০৭ জনের এনজিওপ্লাস্টি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) হৃদরোগ বিভাগের ক্যাথল্যাবে এক দিনে সাতজন রোগীর এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল ঢাকা থেকে এসে কোনোরকম জটিলতা ছাড়াই সফলতার সঙ্গে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ১০৭ জন রোগীর এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন- ডা. আরিফুর রহমান সজল, ডা. শরীফুল ইসলাম রতন, ডা. সাইদুর রহমান রুমি, ডা. কুদরত ই খুদা বাবু, ডা. মতিউর রহমান ও ডা. আমিনুর রাজ্জাক। এ ছাড়াও এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন মমেকের হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা। ক্যাথল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মামুন আজাদ।
এ মানবিক কাজের জন্য ডা. মহসীন আহমদ ও তাঁর দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিভাগীয় প্রধান ডা. গোবিন্দ কান্তি পাল। তিনি বলেন, ময়মনসিংহবাসীর স্বপ্নের ক্যাথল্যাব আজ সেঞ্চুরির মুখ দেখেছে। টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিলে প্রতিদিন এই চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে এবং এই বিভাগের মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসার ঢাকায় কিংবা বিদেশ যেতে হবে না।
এ বিষয়ে মমেকের হৃদরোগ বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. সাজেদুল মেডিভয়েসকে বলেন, ২০২০ সাল থেকে এ হাসপাতালে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চালু হয়। কোভিডের কারণে মাঝে কিছু দিন এটি বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে পুনরায় চালু করা হয়। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১০৭টি এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো রোগীর জটিলতা তৈরি হয়নি।
তিনি জানান, বেসরকারিভাবে এ সেবার খরচ সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হলেও সরকারিভাবে সেবাটি মাত্র সাত হাজার টাকায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্যান্য খরচ বাবদ সরকার আরও কিছু ভর্তুকি প্রদান করে। বেসরকারিতে হাসপাতাল ভেদে খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে সর্বনিম্ন খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
ক্যাথল্যাবে টেকনিয়াশিয়ান সংকটের কথা জানিয়ে ডা. সাজেদুল বলেন, ‘ঢাকা থেকে চিকিৎসকরা আসার সময় টেকনিশিয়ান নিয়ে আসেন। এখানে টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিলে প্রতিদিন এই চিকিৎসা অব্যাহত রাখা যেতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার বাহিরে ক্যাথল্যাব সেন্টারগুলো এখনও উন্নত করা হয়নি। তবে ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর এমন অবস্থা হবে যে, হার্টের একমাত্র চিকিৎসা হবে এনজিওপ্লাস্টি। এটি দ্বারা সম্ভব না হলে তারপর ওষুধের কথা বলা হবে।’
অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর কারণের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক অন্যতম প্রধান কারণ। হার্ট অ্যাটাকে প্রতি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করাতে প্রচুর মানুষের অনাকাঙিক্ষত মৃত্যু ঘটে অথবা হার্ট ফেইলিউর নিয়ে ভোগে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগ এই বিভাগের হৃদরোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হলো হার্টের রক্তনালীর ব্লক। এই ব্লক নিরূপণে এনজিওগ্রামের বিকল্প নেই।
এনজিওপ্লাস্টি কি
যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়, সেই একই পথে ক্যাথেটারের সঙ্গে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করোনারি ধমনির সরু অংশকে প্রশস্ত করা হয়। এতে করে ধমনির ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। ধমনির এ প্রশস্ততা ধরে রাখতে স্টেন বা রিং বসানো হয়, যাকে এনজিওপ্লাস্টি বলা হয়।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ক্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠা হয় ২০২০ সালে। কিন্তু কোভিড ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে কাজ শুরু করা যায়নি। ২০২১ সালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মানবিক চিকিৎসক জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল (এনআইসিভিডি), ঢাকার সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ক্যাথল্যাবে কাজ শুরু হয়।
ডা. মহসীন জানান, তিনি আজ অনেক খুশি, কারণ প্রথম দিকে তার টিম এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করলেও এখন ময়মনসিংহের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাই সব কাজ সুন্দরভাবে করতে পারছে। শুধুমাত্র সমস্যা হলো ক্যাথল্যাব টেকশিয়ানের অভাব। ক্যাথল্যাবের কাজ হলো একটা টিমওয়ার্ক। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সমন্বয়ে সাফল্যজনকভাবে কাজ করা সম্ভব। কিন্তু তাকে ঢাকা থেকে টেকনিশিয়ান এনে কাজ করতে হয়। শুধু দুইজন ক্যাথল্যাব টেকশিয়ান নিয়োগ দিলে ময়মনসিংহ মেডিকেলের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞগণ ময়মনসিংহ বিভাগের মানুষের জন্য আধুনিক এই চিকিৎসা নিজেরাই দিতে পারবে।
এএইচ/এমইউ
-
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
-
২৯ অক্টোবর, ২০২৩
-
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
-
১২ জুলাই, ২০২৩
মানবিক চিকিৎসক মহসীনের অভানীয় সাফল্য
মমেকে ১ দিনে সাত রোগীসহ ১০৭ জনের এনজিওপ্লাস্টি
-
০৬ নভেম্বর, ২০২২
-
৩১ অক্টোবর, ২০২২
-
৩০ জানুয়ারী, ২০২২
-
২১ অক্টোবর, ২০২১