০৬ নভেম্বর, ২০২২ ০৫:৩৪ পিএম

মমেকে চিকিৎসায় শিকলমুক্ত জীবনে সেই বৃষ্টি

মমেকে চিকিৎসায় শিকলমুক্ত জীবনে সেই বৃষ্টি
সবচেয়ে মর্মাহত করে যে বিষয়টি, সেটি হচ্ছে মেয়েটির ছয়টি বছর হাত বাঁধা ছিল।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছয় বছরের মেয়ে বৃষ্টি। কিছু দিন আগেও নিজের শরীরে আঘাত করতো মানসিক রোগে আক্রান্ত মেয়েটি। কিন্তু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মানসিক রোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিকলমুক্ত জীবন উপহার পেয়েছে সে। বৃষ্টি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে রোববার (৬ নভেম্বর) মমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সাগর মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নেত্রকোনার কলমাকান্দা গ্রামের ছোট্ট মেয়ে বৃষ্টির ছয় বছর ধরে ম্যান ইন্টেলিজেন্স ডিসঅর্ডারে ভুগছে। এ কারণে ছোটবেলা থেকেই নিজেকে আঘাত করত সে। এ জন্য বৃষ্টির পরিবার তার হাত বেঁধে রাখতো। আমাদের এখানে চিকিৎসা নেওয়ার পরে মোটামুটি স্বাভাবিক। এখন সে আর নিজেকে আঘাত করে না। সবচেয়ে মর্মাহত হওয়ার বিষয় হলো, মেয়েটির ছয়টি বছর হাত বাঁধা ছিল।’

জানতে চাইলে মমেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সজীব আবেদিন মেডিভয়েসকে বলেন, বৃষ্টির জন্মগতভাবেই ইন্টেলেকচ্যুয়াল ডিজেবলেটি ছিল। এ সমস্যার কারণে তার পরিবার জন্মের পর চারদিন মেডিকেলে ভর্তি রাখে তাকে। পরবর্তীতে তারা কবিরাজি চিকিৎসা নেন। এই চিকিৎসার অংশ হিসেবে বৃষ্টিকে মাটির ভেতরে অর্ধেক পুতে রাখতো।

তিনি বলেন, বৃষ্টি এখন নিজের শরীরে আঘাত করে না। তবে তার হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে। হয়তো পুরোপুরি সুস্থ হবে না, তবে দীর্ঘ মেয়াদি কিছু স্থায়ী সমস্যা থাকবে।

ডা. সজীব আবেদিন বলেন, ভবিষ্যতে তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ না ঘটলেও সে নিজের কাজটুকু করতে পারবে। আগে খাবার খাইয়ে দিতে হতো, পরিয়ে দিতে হতো। হাত বেঁধে না রাখলে হাত দিয়ে নিজের মাথায় ও পেটে আঘাত করত। এখন অনেকটা ভালো আছে সে। 

তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তির ১০-১৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টি সুস্থ হয়ে উঠে। এখনও আমাদের ফলোআপে আছে।

এই রোগের চিকিৎসার খরচের বিষয় তিনি বলেন, এ রোগে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হয়, যার জন্য খরচও বেশি।

এ নিয়ে গত ৪ নভেম্বর মমেকের চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আশাব্যঞ্জক এক পোস্ট দেন।

এতে তিনি লেখেন, ‘আজ সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল মিটিংটা খুব চমৎকার ছিল। মানসিক রোগবিদ্যা বিভাগে এদিন একটি সুন্দর কেস উপস্থাপন হয়। শিরোনামটা অনেকটা এ রকম 'শিকল ভাঙার গল্প!' চলুন শুনি, শিকল ভাঙার গল্প! একটি ছোট্ট মেয়েকে তার পরিবার সারা দিন শিকল পরিয়ে রাখে। কারণ সে নিজেই নিজেকে আঘাত করে। একজন প্রতিবেশী এ মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। এতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। অবশেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিরন্তর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে সে এখন শিকল ছাড়াই ভালো আছে। তার চিকিৎসা ও রোগের মূল্যায়ন চলমান। ছবিতেই দেখতে পারছেন চিকিৎসার পর তার পরিবর্তন। এ এক অনবদ্য শিকল ভাঙার বাস্তব গল্প। হ্যাটস অব টু সাইকিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত