০৭ জুলাই, ২০২৩ ০৪:২৯ পিএম

বেসরকারি মেডিকেল ভর্তি: অটোমেশন পদ্ধতিতে সবাই সন্তুষ্ট

বেসরকারি মেডিকেল ভর্তি: অটোমেশন পদ্ধতিতে সবাই সন্তুষ্ট
অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল। ছবি: আবদুল লতিফ সাদ্দাম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রথমবারের মতো ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের (অটোমেশন) মাধ্যমে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। অটোমেশন পদ্ধতির ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সবাই সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) মেডিভয়েসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি, সবার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা যেন নিশ্চিত হয়। যে শিক্ষার্থী মেধাবী, সে বাদ পড়বে; আর তার চেয়ে কম মেধাবী কেউ টাকার জোরে ভর্তি হবে—এটা যেন না হয়। আমরা চাই, মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি হোক। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল পড়ছে, এ রকম অনুভূতি যেন শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মধ্যে থাকে। এই অনুভূতিটা আসলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মধ্যেও একটা গতির সঞ্চার করবে।’

ডা. জামাল বলেন, ‘সরকারি মেডিকেল কলেজে অটোমেটিক পদ্ধতিতে শুধু মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং এটার সাথে কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক থাকে না, ঠিক একইভাবে বেসরকারিতেও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে সমতা নিয়ে আসা সহজ হবে। সরকারি মেডিকেলে যেসব শিক্ষক পড়ান, তাঁদের অনেকেই কিন্তু বেসরকারিতেও ক্লাস নেন। সব কিছুতেই মিল থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়া কেন আলাদা হবে?’

মেডিকেল কলেজগুলোকে সরকারি-বেসরকারি হিসেবে আলাদা করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবগুলো মেডিকেল কলেজ থেকে যেসব চিকিৎসক বের হবেন, তারা যেন সবাই একই মানের অথবা কাছাকাছি মানের হয়। এটা করতে গেলে একই কারিকুলাম অনুসরণ করতে হবে, একই রকম ভর্তি পরীক্ষা থাকতে হবে এবং একই মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে হবে। পাস করে যাওয়ার পর কোনো চিকিৎসককেই কিন্তু তার মেডিকেল কলেজ দিয়ে বিবেচনা করা হয় না।’

অটোমেশন পদ্ধতিতে যারা সুযোগ পায়নি না, তারাও বিষয়টি মেনে নিয়েছে উল্লেখ করে ডা. জামাল বলেন ‘আমরা কিছু দিন সরকারি মেডিকেল কলেজে এই প্রক্রিয়াটা চালু করেছিলাম, এখন সব মেডিকেলেই এটা চালু করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারও ভেতর কোনো অসন্তোষ নেই। বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। কারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকেই তাদের মেডিকেল কলেজে পেয়েছে। কম মেধাবী কিংবা পেছনের সারির শিক্ষার্থীকে পড়ানোর বিড়ম্বনা থেকে তারা মুক্তি পাচ্ছে।’

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতিনিধিবৃন্দ আমাদের প্রতিটি নীতিনির্ধারণী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন পদ্ধতি কতটা সফল হবে এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা ছিল। সারা দেশের এতগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজেকে এই নিয়মের আওতায় আনা কতটা সম্ভব হবে—এসব বিষয়ে তারা আমাদের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং তাদেরেকেও আশ্বস্ত করেছি। এখন তাদের মধ্যে এই শঙ্কাটা আর নেই। ফি নিয়ে তাদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল, আমরা বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের থেকে বেশি টাকা দাবি করার অভিযোগের বিষয়ে ডা. জামাল বলেন, ‘ভর্তি নিশ্চয়তার জন্য এক লক্ষ্য টাকা ও শিক্ষার্থীদের সাটিফিকেটগুলো জমা দেওয়ার কথা আমরা বলেছি। এতে আমাদের জন্য মাইগ্রেশন করা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। তবে কোনো কোনো মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল যে, ওই শিক্ষার্থী যদি পরে ভর্তি না হয়, এজন্য তারা বেশি টাকা দাবি করেছেন। আমরা যখনই এ রকম কোনো অভিযোগ পেয়েছি সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এখন আর এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই বলেই আমরা মনে করি।’

জা. জামাল বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে কি-না, এটা এখন জলের মতো পরিষ্কার। আমাদের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সবাই দেখতে পারবেন কোন মেডিকেলে কত মেরিট পজিসনের শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন। যেসব মেডিকেল কলেজ বেশি মানসম্পন্ন, শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী তাদের পছন্দের তালিকা দিয়েছে। এর মাধ্যমে বেরসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর একটা অলিখিত র‌্যাংকিংও হয়ে গেছে। এটা কিন্তু আমরা করিনি, শিক্ষার্থী ও অবিভাবকেরাই এটা করেছে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেও এই প্রক্রিয়ায় আমাদের কোনো ব্যত্যয় খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

এসএস/এএইচ/এমইউ

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত