অটোমেশন ও মেধাক্রমেই বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি শুরু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ( ৩ জুলাই) স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী এই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর আগে গত ২৭ জুন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক চিকিৎসা শিক্ষা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মুজতাহিদ মুহাম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিসে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি ও বেসরকারি সকল মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১০ মার্চ। পরীক্ষায় যারা চল্লিশ বা তদূর্ধ্ব নম্বর প্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিচ্ছুশিক্ষার্থীগণ অনলাইনে আবেদন করেছেন।’
প্রাপ্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে এমবিবিএস কোর্সে স্ব-অর্থায়নে (সাধারণ কোটা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ভর্তির জন্য স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়নে পরবর্তী সময়ে কলেজ ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভর্তিচ্ছু দেশি শিক্ষার্থীদের ৩ জুলাই হতে ৯ জুলাই অফিস চলকালীন সময় পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনে উল্লিখিত পছন্দের উর্ধ্বক্রমানুসারে স্বয়ংক্রিয় অভিপ্রায়ণের (অটো-মাইগ্রেশন) মাধ্যমে অন্য মেডিকেল কলেজে বদলির সুযোগ থাকবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক মেধাবী অস্বচ্ছল কোটায় প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, উক্ত কোটার প্রার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পরবর্তীতে যথাসময়ে জানানো হবে।’
কলেজ ভিত্তিক নির্বাচিত স্ব-অর্থায়নে ভর্তিচ্ছু দেশি শিক্ষার্থীদের তালিকা ও ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকেও জানা যাবে। অধ্যক্ষ কর্তৃক গঠিত স্থানীয় ভর্তি কমিটি নির্বাচিত ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্রের সাথে দাখিলকৃত সকল মূল সনদপত্রসমূহ যাচাই পূর্বক অবশ্যই জমা রাখবেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদের ক্ষেত্রে সনদ যাচাইপূর্বক সনদের সত্যায়িত ফটোকপি গ্রহণ করে মূলকপি শিক্ষার্থীকে ফেরত প্রদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড ভর্তির পূর্বে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। বর্ণিত নিয়মাবলী সম্পাদনের পর যোগ্য প্রার্থীদেরকে সাময়িকভাবে ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরবর্তী সময়ে স্বয়ংক্রিয় অভিপ্রায়ণ (অটো মাইগ্রেশন) প্রক্রিয়ায় কোন শিক্ষার্থী পছন্দের ঊর্ধ্বক্রমের কোনো কলেজে আসন বরাদ্দ প্রাপ্ত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তির সময় শিক্ষার্থী কর্তৃক দাখিলযোগ্য মূলসনদপত্র শিক্ষার্থীকে ফেরত প্রদান করবেন বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদিসমূহ
ক. এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র
খ. শিক্ষার্থীর বর্ণিত এমবিবিএস ভর্তিপরীক্ষার রেজাল্টের কপি
গ. এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট/নম্বরপত্র
ঘ. এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা পাসের মূলসনদপত্র/প্রশংসাপত্র
ঙ. এ লেভেল/ও লেভেল মাধ্যমে পাসকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত নম্বর সমতাকরণপত্র
চ. নাগরিকত্বের সনদপত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
ছ. চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্টসাইজের সত্যায়িত রঙ্গিন ছবি
জ. মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী প্রার্থীদের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৪৮.০০.০০০০.০০৩.২৫.০১৯.২০.৮৭৫ তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২০ সালে প্রকাশিত পরিপত্র এবং সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিধি বিধান অনুযায়ী প্রমাণক
শর্তাবলী
১. ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফরমে প্রদত্ত ছবি ও প্রবেশ পত্রের ছবি একই রূপ হতে হবে। অনলাইন আবেদনপত্রে উল্লিখিত তথ্যাদির স্বপক্ষে পরিক্ষার্থী কর্তৃক প্রমাণক প্রদানে ব্যর্থ হলে বা প্রদানকৃত তথ্য অসত্য বলে প্রতীয়মান হলে, যে কোন সময় তার ভর্তি বাতিল করা হবে। এ ছাড়া ভর্তি পরবর্তী সময়ে যদি কোনো শিক্ষার্থীর দাখিলকৃত দলিলাদির মধ্যে ভুলক্রটি পরিলক্ষিত হয়, তবে তার ভর্তি বাতিল হবে এবং উভয় ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে।
২. জাতীয় মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজে নির্বাচিত শিক্ষার্থীগণ বর্ণিত সময়ে (৩ জুলাই থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে জনপ্রতি প্রাথমিকভাবে এক লক্ষ টাকা জমা প্রদান করে ভর্তি হবেন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর অবশিষ্ট অর্থ (অটো মাইগ্রেশন) পরবর্তী সময়ে কলেজে জমা প্রদান করবেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রযোজ্য হবে। ভর্তি পরবর্তী সময়ে স্বয়ংক্রিয় অভিপ্রায়ণ (অটো মাইগ্রেশন) প্রক্রিয়ায় কোন শিক্ষার্থী পছন্দের ঊর্ধ্বক্রমের কোনো কলেজে আসন বরাদ্দ প্রাপ্ত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী কর্তৃক দাখিল যোগ্য মূল সনদপত্রের সাথে উল্লিখিত এক লক্ষ টাকা শিক্ষার্থীকে ফেরত প্রদান করবেন। কোন অবস্থাতেই কোনো শিক্ষার্থী হতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালের ৭৫ নং স্মারক প্রযোজ্য হবে।
৩. ভর্তির পর প্রত্যেক কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ ও নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করবেন। ‘ও’ লেবেল এবং ‘এ’ লেবেল মাধ্যম হতে পাসকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত মূল নম্বরপত্র ও সনদপত্র/প্রশংসাপত্র অবশ্যই নিরীক্ষান্তে জমা রাখতে হবে।
৪. স্বয়ংক্রিয় অভিপ্রায়ণ শেষে ভর্তিরত শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টুডেন্ট ওয়েবপোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫. ভর্তির পর কোন শিক্ষার্থী কলেজে পড়তে অনিচ্ছুক হলে, সেই শিক্ষার্থী এবং তার অভিভাবক অধ্যক্ষের নিকট লিখিতভাবে ভর্তি বাতিলের আবেদন করে মূল সার্টিফিকেট/নম্বরপত্র ফেরত নিতে পারবেন।
৬. অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে নম্বর সমতাকরণ পূর্বক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা ও শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নীতিমালার আলোকে উল্লিখিত যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহ সম্পন্ন করতে পারবে।
৭. যে কোনো বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এএইচ/এমইউ
-
০৬ মার্চ, ২০২৫
-
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
৩০ জুন, ২০২৪
-
১৫ মার্চ, ২০২৪
-
১১ অগাস্ট, ২০২৩
-
০৩ জুলাই, ২০২৩
-
০৫ জুন, ২০২৩