১১ এপ্রিল, ২০২৩ ১১:২২ পিএম

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই। আজ মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাতে ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান সমন্বয়কারী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফী এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় বড় ভাই আমাদের মধ্যে আর নেই।’

৮১ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। করোনার পর কিডনি সমস্যার পাশাপাশি তার লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া তিনি অপুষ্টি‌সহ গুরুতর সেপ‌টি‌সে‌মিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত ৫ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার দুপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডে কিডনি, মেডিসিন, ভাসকুলার সার্জন, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইনটেনসিভিস্ট চিকিৎসক ছিলেন।

শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও ব্লাড পেশার কমে যাওয়ার কারণে তাকে বিশেষ কিছু ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতির কারণে আজ তাকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়।

এক নজরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী 

১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কোয়েপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বড় হয়েছেন ঢাকায়।

তাঁর বাবা হুমায়ন মোর্শেদ চৌধুরীর শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। হুমায়ন মোর্শেদ কলকাতা ও ঢাকার কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। মা হাছিনা বেগম চৌধুরী ছিলেন গৃহিনী। মা-বাবার দশ সন্তানের মধ্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সবার বড়।

পড়াশোনা করেছেন বকশীবাজার স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে।

১৯৬৪ সালে ডিএমসি থেকে এমবিবিএস ও ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব সার্জন্স থেকে জেনারেল ও ভাস্কুলার সার্জারিতে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন।

ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা

মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতাল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি ফিল্ড হাসপাতালকে স্বাধীন দেশে নিয়ে আসেন, যার পরিবর্তিত নাম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

হাসপাতালটির কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ডা. সিতারা বেগম বীরপ্রতীক। সে সময় প্রশিক্ষিত নার্স না থাকায় নারী স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেন ডা. জাফরুল্লাহ।

১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধ নীতি দেশকে ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, ওই নীতি প্রণয়নের অন্যতম কারিগর ছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক