১৯ জানুয়ারী, ২০২৩ ০৯:৪৬ এএম

প্রেসক্রিপশন প্যাডে আত্মহত্যার নোট লিখে চিকিৎসকের বিদায়

প্রেসক্রিপশন প্যাডে আত্মহত্যার নোট লিখে চিকিৎসকের বিদায়
ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লা মেডিকেলের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) এপ্রোন পরা অবস্থায় ইন্টার্ন হোস্টেলে নিজেকে নিঃশেষ করে দেন তিনি।

আত্মহত্যার আগে প্রেসক্রিপশন প্যাডে ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি ছাড়া আর কেউই দায়ী নয়।’

সহপাঠীরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালন শেষে বিকাল ৪টার দিকে ছাত্রাবাসে ফিরে আসেন ডা. মিনহাজ। রাত পৌনে ১১টার দিকে পাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তাঁকে তোয়ালে দিয়ে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

তারা জানিয়েছেন, নিজ ব্যাচের সাথে পাস করতে পারেনি ২০১৪-১৫ সেশনের এ শিক্ষার্থী। তবে অ্যাকাডেমিক কারণে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন বলেও মনে করেন না তারা।

ডা. মিনহাজুল করীম ভূঁইয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায়।

সামাজিক মাধ্যমে শোক

ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বন্ধু, সহপাঠী ও পরিচিতজনরা। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে এ শোক জানান তারা। তবে যে কোনো অপ্রাপ্তির কারণে নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া অযৌক্তিক ও অর্থহীন বলে উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। 

তাঁর আত্মহত্যার খবর দিয়ে করা এক পোস্টের কমেন্ট সেকশনে আদি চৌধুরী নামে একজন বলেন, ‘আত্নহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে শুধু! ডাক্তার আর মেডিকেল স্টুডেন্টদের মধ্যে আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। আমার মনে হয়, এই যে কেউ আত্নহত্যা করলে আমরা সহানুভূতি দেখাই, পোস্ট করি, এটাও একটা ট্রিগারিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে। সে কোনো মহৎ কাজ করেনি। বারবার এসব পোস্ট দেখতে দেখতে যাদের মধ্যে এই সুইসাইডাল টেনডেন্সি আছে, সেটা এগ্রাভেট হতে পারে।’

আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ মত

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি একে অন্যের আবেগ-উচ্ছ্বাস, সুখ-দুঃখে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, অনুভূতিগুলো বলার ক্ষেত্র না পাওয়ায় উদ্বেগ, দুঃখ ও হতাশা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার নির্মম পথ বেছে নেয় মানুষ।

এ প্রসঙ্গে শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা হক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য অসুখ বা অবস্থা। এই বার্তাটি যদি সবার মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে আমাদের কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে যাবে।’

আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানুষের উদাসীনতার কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার লিমিটেডের এই কনসালটেন্ট বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়াটা (জ্বর-কাশি) পরিবারের সদস্যদের নজরে পড়ছে। স্বজনেরা তাকে হাসপাতালে নিচ্ছে, চিকিৎসকগণ দেখতে পারছেন। ফলে করোনা নিয়ে আমরা প্রতিরোধের জায়গাটা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছি। বিপরীতে আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তি যেমন তার মনের সংকটের কথা বলেন না, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে গুণগত সময় দেন না। সাহস করে যারা মনের সংকটের খবর দেন, তাদেরকে ‘ভান করছে’ অথবা ‘মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে’, ইত্যাদি বলে তাচ্ছিল্য করা হয়। আর এ পথ ধরে আত্মহত্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, এটা মহামারিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের আত্মহত্যা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি