১৪ জুন, ২০২৬ ১১:৪৭ এএম

স্বেচ্ছায় রক্তদানে মেটে ৩০ ভাগ চাহিদা, সংকট মোকাবিলায় ডাটাবেজে জোর

স্বেচ্ছায় রক্তদানে মেটে ৩০ ভাগ চাহিদা, সংকট মোকাবিলায় ডাটাবেজে জোর
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রতি বছর আট থেকে দশ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও স্বেচ্ছায় রক্তদানে পূরণ হচ্ছে এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এ অবস্থায় নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়াতে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, রক্তের কোনো বিকল্প নেই, তাই জীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও আহ্বান জানান বক্তারা।

আজ রোববার (১৪ জুন) বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) র‍্যালিপূর্ব আলোচনায় স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিতকরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ব্লাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (বিটিএসবি) এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, দ্রুত সরবরাহযোগ্য ও জীবন রক্ষাকারী একটি চিকিৎসার অংশ। রক্তের কোনো বিকল্প হয় না। এর বিকল্প কেবল রক্তই। আজকের দিবসের উদ্দেশ্য হলো, রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি রক্তগ্রহণ প্রক্রিয়াকে কাঠামোবদ্ধ উপায়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ, ড্যাটাবেজ তৈরি ও সেটা প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো।

দাতার সংখ্যা বাড়াতে রক্তদাতা দিবসে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদেরকে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা যেতে পারে, যার মাধ্যমে মানুষকে রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরা সম্ভব হবে। জাতীয় কোনো সংকটে রক্তদান ব্যবস্থাপনায় আমরা হিমশিম খাই, এজন্য এতে সবার সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।

অনেকে অনেক সময় রক্ত দিতে চায়, কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কার কাছে রক্ত দেবে সেটা বোঝে উঠতে পারে না। এজন্য বিটিএসবি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত‌ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, রক্তদাতাদের ডাটাবেজ নিয়ে দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের দেশের এখনো প্রায় প্রতি বছর আট থেকে দশ লাখ ইউনিটের রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তদাতাদের কাছ থেকে ৩০ ভাগ পাওয়া যায়। ৭০ ভাগ পাওয়া যায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা হলো, স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়টি শতভাগে উন্নীত করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে বর্তমান সরকারের যে অঙ্গীকার ও লক্ষ্য রয়েছে, এর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের ড্যাটাবেজ বাস্তবায়িত হলে ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ আরও বেশি কার্যকর উদ্যোগ রাখতে পারবে।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে তরুণ, যুবক ও মধ্যবয়সীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা সফল করা সহজ হবে।

ব্লাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশের (বিটিএসবি) মহাসচিব ডা. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, রক্ত মানবদেহের এমন একটি উপাদান, যেটির ঘাটতিতে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিমোগ্লোবিন, সেটা কমে গেলে অনেক উপসর্গ দেখা দেয়। সেই চিকিৎসা রক্ত দিয়েই করতে হয়। তরুণ ও যুবকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, রক্ত দান করলে নিজের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এর মাধ্যমে মানবতার মহান কাজে ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়। রক্ত সঞ্চালনের সময় দাতা বিনামূল্যে অনেকগুলো পরীক্ষার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন রোগজীবানু তার মধ্যে আছে কি-না, তা জানার সুযোগ পান।

রক্তদানে এগিয়ে আসতে নাগরিকদের আহ্বান জানান বিটিএসবি সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহান ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বছরে আট-দশ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর মাত্র ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়।’

‘সুতরাং দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ খুবই কম। আমরা চাই, শতভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদান। এটা হলে রক্তের একটি রিজার্ভ তৈরি করা সম্ভব হবে। আর সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজের মাধ্যমে দান করা ও সংরক্ষণ করা গেলে নিদানকালে রক্তদাতাও সেই রক্ত নিজের ও স্বজনদের প্রয়োজনে পেতে পারেন’—বলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. ফারহান ইসলাম বলেন, ‘রক্তের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। রক্তে যেমন জীবন বাঁচে, তেমনি ভুলভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন অথবা ভুল রক্ত দেওয়ার কারণে অনেক সময় জীবন শেষ হয়ে যায়। এখানে সামান্য ভুল করার কোনো সুযোগ নেই, আবেগের কোনো সুযোগ নেই।’

বিটিএসবির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএমইউর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খান আনিসুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা শেষে র‌্যালির শুভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বর্ণাঢ্য এ র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ র‌্যালিতে অংশ নেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সটিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে র‌্যালিতে অংশ নেন।

এ সময় বিটিএসবির মহাসচিব ডা. খায়রুল ইসলাম, সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. ওয়াসিমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত