ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

সহযোগী অধ্যাপক (ভাইরোলজি),
পিএইচডি গবেষক (মলিকুলার বায়োলজি),
ইনস্টিটিউট ফর ডেভলপিং সায়েন্স এন্ড হেল্থ ইনিশিয়েটিভস। 


০১ নভেম্বর, ২০২২ ০২:১৮ পিএম

প্ল্যাটিলেট নয়, পানিশূন্যতাই ডেঙ্গু রোগীর ভয়ংকর পরিণতির কারণ  

প্ল্যাটিলেট নয়, পানিশূন্যতাই ডেঙ্গু রোগীর ভয়ংকর পরিণতির কারণ  
প্ল্যাটিলেট ২০ হাজারের নীচে না নামা পর্যন্ত, এটি সংগ্রহের জন্য দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। খুবই কম সংখ্যক রোগীর প্ল্যাটিলেট প্রয়োজন হয়।

জ্বর হলে শরীর ভীষণ দূর্বল হয়ে পড়ে। মুখে থাকেনা  কোন স্বাদ। এমনকি পানি পান করতেও ইচ্ছা করেনা। ফলে রোগীর খুব সহজে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতেই ডেঙ্গু রোগীর হতে পারে ভয়ংকর পরিণতি। 

ডেঙ্গু মূলত তিনভাবে প্রকাশিত হতে পারে। যেমন-সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর, রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গু জ্বর ও এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম (বিরল কিন্তু ভয়াবহ রূপ, যেখানে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি)।

পানিশূন্যতা ও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা ডেঙ্গু জ্বরের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। একজন রোগী পানিশূন্যতা দুইভাবে হতে পারে। ১. প্রচণ্ড অরুচি ও দুর্বলতার কারণে তরল খেতে না পারা। ২. প্লাজমা লিকেইজ (plasma leakage)। অর্থাৎ, ডেঙ্গুর ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত সাইটোকাইনের প্রভাবে রক্তনালির মধ্যে ফুটো তৈরি হয়। এতে রক্তের তরল অংশ রক্তনালি থেকে বের হয়ে রক্তকে ঘন (hemoconcentration) করে। রক্তে হেমাটোক্রিটের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ ভাগ বেড়ে যাওয়াকে প্লাজমা লিকেইজ শুরু হওয়া বুঝায়।

পানিশূন্যতার জন্য অনেকসময় রোগী হাইপোভলেমিক শকে চলে যায়, যাকে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলে। এতে হার্ট দুর্বল হয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন-লিভার, কিডনি অকেজো হয়ে যায়। এজন্য জ্বর শুরু হওয়ার পর থেকেই আক্রান্ত রোগীকে তরল খাবার খাওয়াতে পারলে প্লাজমা লিকেইজজনিত পানিশূন্যতার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। যেসব রোগী একেবারেই খেতে পারেন না এবং শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্যালাইন শিরা পথে দেওয়া উচিত।

স্যালাইন দেয়ার সময় কয়েকটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে- রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় কিনা।

হেমাটোক্রিট স্তর (Hematocrit level)

যদি রক্তচাপ কমে যায় এবং সাথে সাথে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক প্রেসারের পার্থক্য বা পালস প্রেসার কমে যায়, রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, হেমাটোক্রিট স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত স্যালাইন রক্তে প্রবেশ করেছে। এতেও  কিন্তু হার্ট ফেইলিউর হয়ে রোগী মারা যেতে পারে। তাই কোনোভাবেই বাসায় শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যাবেনা, এবং হাসপাতালেও  যত্নের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

hematocrit level নির্ণয়

সিবিসি (CBC) টেস্ট করলে রক্তের অনেকগুলো প্যারামিটারের ফলাফল দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটি হিমাটোক্রিট, যা রিপোর্টে HCT হিসেবে লেখা হয়।

আমরা দেখি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা প্ল্যাটিলেট কাউন্টের দিকে অতিরিক্ত মনযোগী হয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো নিতে ভুলে যান। প্ল্যাটিলেট সংগ্রহের জন্য ছুটাছুটি করতে থাকেন। বলে রাখা ভালো, প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ২০ হাজারের নীচে না নামা পর্যন্ত এটি সংগ্রহের জন্য দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। খুবই কম সংখ্যক রোগীর প্ল্যাটিলেট প্রয়োজন হয়।

ডেঙ্গু রোগের মূল চিকিৎসা প্ল্যাটিলেট দেওয়া নয়, বরং নিখুতভাবে পানিশূন্যতা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রক্তক্ষরণের জন্য নয়,  বরং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে মারা যায়। যদি পায়খানা বা বমির সঙ্গে রক্ত যায়, তাহলে প্ল্যাটিলেট না সঞ্চালন করে রক্ত দেওয়া উচিত। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডেঙ্গু রোগী
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে