০১ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৩১ পিএম

বয়স ৩০ হলেই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে

বয়স ৩০ হলেই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে
দেরিতে বিয়ে-সন্তান গ্রহণে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বয়স ৩০ বছর হলে ব্রেস্ট ক্যানসারের রিচ ফ্যাক্টরগুলো বেশি কাজ শুরু করে। এ ছাড়া দেরিতে বিয়ে ও সন্তান গ্রহণ, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চেয়ে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে এবং অতিরিক্ত ওজন যাদের, তাদের স্তন ক্যান্সারের বেশি ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্যানসার স্টাডি গ্রুপ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টারস ফোরাম আয়োজিত ‘বংশগত কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সার্জিক্যাল অনকোলোজি বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ব্রেস্ট সার্জন ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, বয়স ৩০ বছর হলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের যতগুলো রিচ ফ্যাক্টর রয়েছে, সেগুলো ব্রেস্টের ওপর বেশি কাজ শুরু করে। এই বয়সেও একটি মেয়ের ফুলটার্ম ব্রেস্ট ডেভেলপমেন্ট হয় না। একটি ব্রেস্ট তখনই পুরোপুরি ডেভেলপমেন্ট হয়, যখন তার একটি বেবি আসে। এর আগে ব্রেস্ট বড় হয় ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি ডেভেলপমেন্টটা আসে না। যখনই একজন নারী ফুল টার্ম বেবি নিয়ে নিচ্ছে, তখনই তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর এই ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। তখন আর করার কিছু থাকে না। বয়স ৩০ বা ৩৫ হবার পর সব নারীর উচিত নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার ১০০ ভাগ নিরাময়যোগ্য বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যাদের পরিবারের কোনো সদস্য ইতোপূর্বে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের অন্যদেরও এই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায় শতকরা ৩০ থেকে ৮০ ভাগ।

তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সারের সব চিকিৎসা ব্যবস্থা বাংলাদেশেই করা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে একটা কথা হলো আমাদের দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী আমাদের প্রয়োজন হয় ১৬০টি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার সেন্টার। এর বিপরীতে ছোট-বড় সবমিলিয়ে আমাদের আছে মাত্র ২৬টি। এখন আসলে এই অল্প সংখ্যক চিকিৎসা কেন্দ্রে কী করে সম্ভব এতো রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া? এজন্য আমাদের অবশ্যই চিকিৎসা কেন্দ্রের পাশাপাশি অভিজ্ঞ জনবল, যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের মেডিকেল অনকোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, টার্শিয়ারি লেভেলের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালেই কিন্তু ক্যান্সার ডায়গোনোসিসের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, চিকিৎসাও হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, আমাদের ক্যাপাসিটি ৮০ জনের, কিন্তু রোগী আসছে ৪০০ জন। আমি ৮০ জনকেই চিকিৎসা করলাম, কিন্তু বাকি ৪২০ জনই কিন্তু লাইন দাঁড়িয়ে থাকেছে। এখানেই সমস্যাটা। বাকি ৪২০ জনকে তখনই আমি পরিপূর্ণভাবে সেটা দিতে পারব, যখন আরও ৮ থেকে ১০টা সেন্টার আমাদের তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক আছে, আমাদের টেকনোলজিও কিন্তু খুবই উন্নত মানের। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যান্সার ডায়গোনস্টিক করার জন্য যত আধুনিক ইনভেসটিগেশন প্রয়োজন আমাদের আছে। এক্ষত্রে সরকারি লেভেলের দুয়েকটা হাসপাতালে হয়তো এখনও হয়নি, সেটিও খুব শিগগিরিই হয়ে যাবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্তন ক্যান্সার
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত