২০ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৩২ পিএম

ডা. জেনিকে হেনস্তাকারী পুলিশদের শাস্তি দাবি এফডিএসআরের

ডা. জেনিকে হেনস্তাকারী পুলিশদের শাস্তি দাবি এফডিএসআরের
ডা. সাঈদা শওকত জেনি। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে চলামান লকডাউনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনিকে হেনস্থাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। 

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে লকডাউন চলাকালীন চিকিৎসক হয়রানির প্রতিবাদে এফডিএসআরের এক জরুরি ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, ‘লকডাউনের পঞ্চম দিনে হাসপাতাল থেকে ডিউটি শেষে ফেরার পথে এলিফ্যান্ট রোডে বিএসএমএমইউর রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি একদল পুলিশ কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে এই ঘটনার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাবে আংশিক ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। করোনার এই দুঃসময়ে চিকিৎসক হেনস্তাকারী পুলিশদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে মহিলাদের সাথে কথা বলবার জন্য রাজপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা পুলিশ নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ডা. জেনির কাছে অন্যায়ভাবে মুভমেন্ট পাশ চেয়েছে। অথচ ডাক্তারদের মুভমেন্ট পাশ লাগবে না বলে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত পাপিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর। নিজের পরিচয় ও গাড়িতে থাকা বিএসএমএমইউ হাসপাতাল পরিচালকের কর্তৃক ইস্যুকৃত মুভমেন্ট পাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত স্টিকার ও বিএসএমএমইউর লোগোসহ ডাক্তারের নামাঙ্কিত অ্যাপ্রন দেখেও তঁকে ভুয়া চিকিৎসক বলে পুলিশ ডা. জেনিকে চরমভাবে উত্যক্ত করেছেন।’ 

লকডাউনে চিকিৎসক হয়রানির তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের প্রথম দিনেই প্রচুর সংখ্যক চিকিৎসক ডিউটিতে যাবার পথে একাধিক স্থানে পুলিশ কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এফডিএসআরের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের পাশাপাশি আমরা পুলিশের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছি। তাঁদের পক্ষ থেকে এ ধরণের হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। এরপরেও ডা. জেনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩০ হাজারের মত সরকারী এবং ৫০ হাজারের বেশী বেসরকারী ডাক্তার বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত। বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত অধিকাংশ ডাক্তারেরই প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড নেই। আইডি কার্ড না থাকলেও প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যুকৃত ছবিসহ পাস বা চিঠি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কেউ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে চিকিৎসকদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারে। চিকিৎসকদের গাড়ি বা রিক্সা থামিয়ে অন্যায়ভাবে জরিমানা করার হারও গত কয়েকদিনে বহুগুন বেড়েছে। এভাবে চললে চিকিৎসকদের ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাবে না। পাশাপাশি তাদের মনোবলও ক্ষতিগ্রস্থ হবে’, যোগ করেন ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন।

টিকিৎসকরা এ ধরণের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চায় জানিয়ে এফডিএসআর সভাপতি বলেন,  ‘প্রতিটি চিকিৎসকেরব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যানবাহনে আসা-যাওয়া করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের আবাসন, যানবাহন ও বিশেষ ডিউটি রোস্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করবার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ চাই। চিকিৎসকদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণের আন্দোলনে আমরা অতীতের মতো বর্তমানেও সাংবাদিক ভাই-বোন এবং মিডিয়ার সহায়তা চাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি