২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৩:২৭ পিএম

ঢামেকে অনারারি চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক কোভিড ডিউটি: পাচ্ছেন না সুবিধা

ঢামেকে অনারারি চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক কোভিড ডিউটি: পাচ্ছেন না সুবিধা
ছবি- মেডিভয়েস

মুন্নাফ রশিদ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এফসিপিএস কোর্সে প্রশিক্ষণরত অনারারি চিকিৎসকদের কোভিড মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলক ডিউটি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ১৯ ডিসেম্বর ঢামেক মেডিসিন বিভাগ থেকে মৌখিক পরীক্ষা এবং কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটির বিষয়ে দেওয়া এক নোটিসে এ কথা জানানো হয়।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) নিয়ম অনুযায়ী মেডিসিন বিভাগে ছয় মাস ট্রেনিং করার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে এ বছর প্রশিক্ষণরত সকল অনারারি চিকিৎকদের জন্য তিন মাস কোভিড এবং তিন মাস নন-কোভিড ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও বিসিপিএস কোভিড এবং নন-কোভিডের বিষয়টি নির্ধারণ করেনি।

তবে এই ডিউটির জন্য কোনও ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং কোনো সরকারি প্রণোদনা, খাবার বা আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করা হয় ওই নোটিসে।

অনারারি চিকিৎসকদের ক্ষোভ 

করোনা মহামারীর এই সময়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কোভিড মেডিসিন ওয়ার্ডে ডিউটি বাধ্যতামূলক করার ঘোষণায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনারারি চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, কোনও ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটি করা তাদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশিক্ষণরত একজন অনারারি চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অনারারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আনেকটাই নামমাত্র। মূলত এই ট্রেনিংটি এখনও অবৈতনিকই বলা যায়। এমন অবৈতনিক অবস্থায় কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটি করা আমাদের জন্য কষ্টকর। তারপরও চিকিৎসক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। কিন্তু কোনও নিরাপত্তা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা—এমনকি ঝুঁকি ভাতাও থাকবে না, এটি মেনে নেয়া যায় না, এটি অমানবিক।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন চিকিৎসক বলেন, বিসিপিএসের নিয়ম অনুযায়ী মেডিসিন বিভাগে ছয় মাস ট্রেনিং করার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোভিড এবং নন-কোভিডের বিষয়টি নির্ধারণ করে দেয়নি বিসিপিএস। সুতরাং কোভিডে ডিউটি যদি বাধ্যতামূলক করতেই হয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী এবং সুবিধাদি দেওয়া হোক। তাহলে তো সমস্যা নাই।

ওই চিকিৎসক বলেন, একটি রোগের পেছনে যদি তিন মাস ব্যয় করা হয়, তাহলে বাকি তিন মাসে তো অন্য কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কোনও ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং কোনও সরকারি প্রণোদনা, খাবার বা আবাসন পাওয়া যাবে না এবং আক্রান্ত হলে তার দায়িত্ব কে নিবে, সেটিও বলা হয়নি। 

যা বলছেন ঢামেক কর্তৃপক্ষ

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা সকল চিকিৎসককে সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম হাফিজ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যারা কোভিডে ডিউটি করবেন তাদেরকে এন৯৫ মাস্ক ও পিপিইসহ সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’

সরকারি চিকিৎসকরা যেসব সুবিধা ভোগ করেন কোভিড ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করা প্রশিক্ষণরত এসব অনারারি চিকিৎসকরাও একই ধরনের সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।

ডা. এস এম হাফিজ বলেন, ‘প্রত্যেককে নিজ বাসায় আইসোলেট থাকতে হবে। এছাড়া আগে হোটেল থেকে যে খাবারের সুবিধা ছিল সেটি এখন কারও জন্য চালু নেই। সুতরাং খাবারের ব্যবস্থা থাকবে না। তবে হাসপাতালের পরিচালক এবং অধ্যক্ষসহ ঊর্ধ্বতন সবাই চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত থাকার ব্যবস্থা করা যায়।’

মেডিসিন বিভাগের প্রধান বলেন, এর আগে যারা কোভিডে ডিউটি করেছে তারাই শুধু ট্রেনিংয়ের সনদ পেয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা কোভিডেই ডিউটি করে আসেছে। ট্রেনিংয়ে নতুন যাদেরকে নেওয়া হচ্ছে তাদেরকে তিন মাস কোভিডে এবং তিন মাস নন কোভিডে ডিউটি করার সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।

এফসিপিএস পার্ট ওয়ান সম্পন্ন হোক আর না হোক অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যারাই আসবেন এ নিয়ম তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা জেনেই এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোভিডে ডিউটি করা অন্যান্য সরকারি চিকিৎকদের মতো তাদেরকে ঝুঁকি ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মহামারী কতদিন স্থায়ী হবে সেটি যেহেতু বলা যাচ্ছে না। সুতরাং সকল নিয়ম মেনেই আমাদের চলতে হবে। তবে তাদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।’

কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটি করার ক্ষেত্রে যাতে তাদের যেন কোনও অসুবিধা না হয় সেটি অবশ্যই দেখা হবে বলে জানান ঢামেক অধ্যক্ষ। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এফসিপিএস
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক