১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:১৪ এএম

করোনা টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় আছেন যারা

করোনা টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় আছেন যারা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে কাঁপছে সারা পৃথিবী। ভাইরাসটি থেকে সুরক্ষায় গতকাল স্থানীয় সময় (১৪ ডিসেম্বর) সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দ্রুতই নাগরিকদের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্তের পথে বিশ্বের অনেক দেশে। এমন প্রেক্ষাপটে ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ। 

করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কিনতে ইতোমধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

খরচের অর্ধেক টাকা অধিদপ্তরকে বরাদ্দ 

ভ্যাকসিন কিনতে মোট প্রস্তাবিত খরচের অর্ধেক টাকা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এ টিকার ভারতীয় উৎপাদক সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৫ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ক্রয় চুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে।  

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আসতে পারে।

গত ১৩ ডিসেম্বর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে করোনার জাতীয় গাইডলাইনসমূহের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। আর এই টিকা দেওয়া হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজের হিসেবে প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ দেওয়া যাবে ২৫ লাখ মানুষকে।

তৈরি ১০ ধরনের অগ্রাধিকার তালিকা 

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির চেয়ার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেন, ভ্যাকসিন দেয়া হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। ১০ ধরনের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে এই তালিকা থেকে কারা কতজন পাবেন তাও নির্ধারণ প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। আমরা অচিরেই এই অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করবো।

ভ্যাকসিনবিষয়ক কর্মসূচি পরিচালিত হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কর্মীরা এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

১০ ধরনের জনগোষ্ঠীতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তাদের মধ্যে আছেন: মুক্তিযোদ্ধা, করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির কর্মী, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী, বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী, শিক্ষাকর্মী ও গণপরিবহনকর্মীরা।

সূত্রে জানা গেছে, দেশে মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী তিন লাখ, বেসরকারি কর্মী সাত লাখ, স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন এনজিওকর্মী রয়েছেন দেড় লাখ। গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন ৫০ হাজার; জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাঁচ হাজার। পুলিশ বাহিনীর সদস্য দুই লাখের ওপরে। ক্যানসার, যক্ষ্মা আর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী ধরা হয়েছে এক লাখ দুই হাজারের মতো। সেনাবাহিনী জন্য ধরা হয়েছে তিন লাখ। সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ধরা হয়েছে ৭০ হাজার।

জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ১০ ধরনের জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছি। তবে তার মধ্যে জনপ্রতিনিধি ছিল বলে আমার মনে হয় না। আর আমরা ওই ১০ ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্য বলেছি। যেমন চিকিৎসক অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু যে চিকিৎসক সরাসরি চিকিৎসা কাজে যুক্ত নন তিনি পাবেন না। পুলিশের কথা বলেছি৷ কিন্তু যে পুলিশ সদস্য সরাসরি ফিল্ডে কাজ করেন না তিনি পাবেন না।’

ভ্যাকসিনের অগ্রাধিকার তালিকা ও বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এই পরিকল্পনায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণ কৌশলও রয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক