বিএমইউতে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স’
চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে রাসূলের জীবনাদর্শ ধারণের আহ্বান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাসূলুল্লাহর (সা.) জীবনাদর্শ ও নববী চরিত্রকে চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতারা। তারা বলেন, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব কেবল রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মমতা, সততা, আমানতদারি ও ইনসাফের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও নববী আদর্শের শিক্ষা।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স-২০২৬’ এসব কথা বলেন তারা।
অনুষ্ঠানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিএমইউ এনডিএফের সভাপতি ডা. এম জি ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার প্রভাষক ও ইসলামিক স্কলার ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ইসলামীর ঢাকা সিটি দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, এনডিএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. আতিয়ার রহমান এবং আদ্-দীন ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুইজের চূড়ান্ত পর্ব ও টপিক প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শ কেবল ইতিহাসের পাতা বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে তাঁর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শের কোনো বিকল্প নেই। আপনারা যারা মহৎ চিকিৎসাপেশায় আছেন, আপনাদের প্রতিটি সেবা হতে পারে শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যদি তা নবীজির দেখানো মমতা, সততা ও ইনসাফের আলোকে হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার মহানবী (সা.)-এর মানবিক গুণাবলির বর্ণনা দিয়ে বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। একজন চিকিৎসক যখন রোগীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন, তখন তিনি কেবল শারীরিক চিকিৎসাই করেন না, বরং তিনি রাসূলের সুন্নাহ পালন করেন। ইহকালীন মোহের ঊর্ধ্বে উঠে নবীজির সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আমানতদারিতাকে আপনাদের পেশাগত জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম জি ফারুক হোসাইন বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছে মানুষ তার সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে ছুটে আসে। তখন কেবল চিকিৎসাবিদ্যা নয়, প্রয়োজন হয় পরম মমত্ববোধের। আজকের এই সীরাহ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্যই হলো আমাদের চিকিৎসকদের মাঝে সেই নববী চরিত্রের স্ফুরণ ঘটানো। পেশাগত কাজের পাশাপাশি আমরা যেন নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারি, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এমআর/জেএইচ/এমইউ/