২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:২৫ পিএম

বিএসএমএমইউর চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

বিএসএমএমইউর চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিডনি অপসারণের ঘটনায় রওশন আরা (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ একটি কিডনি অপসারণের কথা বলে দুইটি কিডনি অপসরণ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

ওই রোগীর কিডনিতে জন্মগত ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তাঁর একটি কিডনি আরেকটির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ফলে একটা কিডনি অপসরণ করা সম্ভব ছিল না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ মামলাটি করেন মৃত রোগী রওশন আরার ছেলে মো. রফিক সিকদার। এদিনে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন।

চার চিকিৎসক হলেন: বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল (৫৫), একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন (৪৮), চিকিৎসক মো. মোস্তফা কামাল (৪৬) ও চিকিৎসক আল মামুন (৩৩)। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চার জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে নিহতের ছেলে রফিক সিকদার শাহবাগ থানায় মামলা করেন। নিহত রওশন আরার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে (নম্বর- ১৬৪৪/১৮) বিশেষজ্ঞরা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, অল অরগান ড্যামেজ হওয়ার কারণে রওশন আরার মৃত্যু হয়েছে এবং তার দুটি কিডনিই সার্জিক্যালি অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর রওশন আরার মৃত্যুর একদিন পর ওই বছরের এক নভেম্বর তার ছেলে রফিক সিকদার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৫৩) করেছিলেন। এরপর শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চম্পক মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ জুন তার মাকে ঢাকার মিরপুর বিআইএইচএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক ইউসুফ আলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার মায়ের ডান কিডনিটি স্বাভাবিক এবং বাম কিডনিটি ‘এফেক্টেড’ অবস্থায় আছে। এরপর রওশন আরাকে ২০১৮ সালের এক জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে পাঠানো হয়। ওই দিনই অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের তত্ত্বাবধানে রওশন আরাকে হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার নির্দেশনা দেন তিনি। তবে ১২ আগস্ট অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের পরামর্শ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রওশন আরার ডান কিডনিটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তার দুটো কিডনি সেপারেট অবস্থায় আছে।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট বিএসএমএমইউ থেকে ডা. সৈয়দ সুলতান ফোন করে জানান, রওশন আরার বাম পাশের অকেজো কিডনি অপারেশন করার জন্য আসতে হবে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট অধ্যাপক হাবীবুর রহমানের পরামর্শে রওশন আরার বাম কিডনি অপারেশনের জন্য তাকে ভর্তি করে বিভিন্ন টেস্ট করানো হয়। কিন্তু দুটি পরীক্ষায় জানা যায় তার কিডনি স্বাভাবিক রয়েছে।

তবু ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট চিকিৎসক হাবিবুর রহমান দুলাল রওশন আরার বাম কিডনিটি অপসারণ করতে বলেন। ওই দিন দুপুরে হাসপাতালের ১০তলার ইউরোলজি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল, সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার ফারুক হোসেন, ডাক্তার মোস্তফা কামাল ও ডাক্তার আল মামুন বাম পাশে থাকা কিডনিটি অপসারণের জন্য অপারেশন শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অপারেশনের পর একটি কিডনি স্বজনদের হাতে দেওয়া হয়। তবে এরপরই রওশন আরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাতেই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে বলা হয়। হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় ডিউটি ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে মগবাজারে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নেওয়া হয়। ছয় আগস্ট ওই হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রফেসর ডাক্তার ফখরুল ইসলাম পরীক্ষা করে প্রথম জানান, রওশন আরার দুটি কিডনির একটিও নেই।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা এর আগে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। তাদের তদন্তের রিপোর্টের বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। যেখানে সব কিছু বলা হয়েছিল। আর এখন যদি কিছু বলতে হয়, তাহলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে বলতে হবে। এটি থানায় এসেছে, এখনো আমাদের হাতে এখনও পৌঁছায়নি। এছাড়া এ বিষয়ে উচ্চআদালতে একটি মামলা আছে সেটির অবস্থাও জানার প্রয়োজন। এসব সামগ্রিক বিষয়ে পূর্বের সেই তদন্ত কমিটিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কাজ করার জন্য পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই রোগীর কিডনিতে জন্মগত ত্রুটি ছিল। একটি কিডনি আরেকটির সঙ্গে নিচের দিকে সংযুক্ত ছিল। ফলে একটা কিডনি অপসরণ করা সম্ভব ছিল না। এ বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে তখন তাদেরকে জানানো হয়েছিল। তারা এখন যে অভিযোগ করছে, সেটি সঠিক না।’

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ওই রোগীর কিডনি সমস্যার কারণে এর আগে কয়েকবার অপারেশন করা হয়েছিল। ফলে ওই স্থান দিয়ে তার পুঁজ বের হতো। এছাড়া তার যে শুধু কিডনি সমস্যা ছিল তা নয়, অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ছিল।’ 

  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি