ফের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ‘টপ ডক্টর’ বাংলাদেশি চিকিৎসক জিয়াউদ্দিন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ‘ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিন’র মর্যাদাপূর্ণ ‘টপ ডক্টর’ সম্মাননায় আবারও ভূষিত হয়েছেন ফিলাডেলফিয়ার খ্যাতনামা কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ (সাদেক)। চিকিৎসাসেবায় অনন্য অবদান রাখায় ২০২৬ সালের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ফিলাডেলফিয়ার চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং পিয়ার-রিভিউড মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছর ধরে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
‘লুইস কাটজ স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট টেম্পল ইউনিভার্সিটি’র ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ পেনসিলভানিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত ও প্রিয় মুখ।
একজন বোর্ড-সার্টিফায়েড নেফ্রোলজিস্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগের চিকিৎসা ও গবেষণায় অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।
চিকিৎসাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, রোগীদের প্রতি গভীর আন্তরিকতা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তৈরিতে অনবদ্য ভূমিকার জন্য সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি অত্যন্ত সমাদৃত।
সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সাদেকের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন সহকর্মীরা। তারা বলেন, ‘২০২৬ সালের ‘টপ ডক্টর’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আপনার পেশাগত উৎকর্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধেরই অনন্য স্বীকৃতি। রোগীদের প্রতি আপনার নিবেদন এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে আপনার অনুকরণীয় নেতৃত্ব আমাদের গর্বিত করে।’
অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের এই গৌরবময় সাফল্যে ফিলাডেলফিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে গভীর আনন্দ ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তা সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয় বলে মনে করেন প্রবাসীরা।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দিন আহমেদের সন্তান ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মা অধ্যক্ষ হোসেনে আরা আহমেদ (১৯৪৭ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে মাস্টার্স করা) সিলেট মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নারীদের ক্ষমতায়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।
এই দম্পতির সন্তানেরা সিলেটে এবং আমেরিকায় বাঙালি কমিউনিটিতে বিভিন্ন জনকল্যাণ কাজ করে চলেছেন। সিলেটে কিডনি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে ছয় বছর থেকে চ্যারিটি ডায়ালাইসিস সেন্টার পরিচালনার পর এখন ১২তলা কিডনি এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল শুরু করেছেন তারা।
জানা গেছে, কোভিডের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনজন মার্কিন চিকিৎসক থেকে কয়েক মিলিয়ন ভ্যাকসিন, ৮৫০টি ভেন্টিলেটরসহ বহু সামগ্রী দেশে পাঠানোয় ভূমিকা রাখেন তাঁরা। সিলেটে যখন ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল ছাড়া সব মেডিকেল কলেজ ও প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ ছিল, তখন কিডনি ফাউন্ডেশন থেকে তার দুটি কোভিড হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছয় মাস সেবা চালিয়ে যায়।
এমইউ/