পাঁচটি স্বতন্ত্র ধরণসহ দেশে করোনার রুপ পরিবর্তনের হার সর্বাধিক
মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রণঘাতী করোনার সংক্রমণের ভয়াবহতার অন্যতম কারণ এর রুপ পরিবর্তন। ভাইরাসটি অন্য যেকোন ভাইরাসের তুলনায় অধিক রুপ পরিবর্তন করছে। তবে এই রুপ পরিবর্তনের হার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শতকরা ১২ দশমিক ৬০। যা সারাবিশ্বে শতকরা ৭ দশমিক ২৩।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন তুলে ধরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আফতাব আলী শেখ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। এ নমুনা চলতি বছরের ৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৮ বিভাগ থেকে সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সারাবিশ্বে নমুনা প্রতি মিউটেশন হার ৭ দশমিক ২৩। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৬০ লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র ধরণের করোনাও রয়েছে। নমুনাগুলোর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ Global Initiative on Sharing All Influenza Data (GISAID) তে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ড. আফতাব আলী।
গবেষণার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈচিত্র্য, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জিনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করাই ছিলো গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও গবেষণার ফলাফলকে করোনা মহামারী রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যবহার করা ছিলো এই গবেষণার লক্ষ্য।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্টের G 414 (স্পাইক রুটিনে ৬১৪তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক গ্লাইসিন হওয়ার কারণ) উপস্থিতি পাওয়া যায়। প্রাপ্ত ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের মধ্যে ২৪৩টি GR ক্লেড, ১৬টি G ক্লেড এবং ১টি O ক্লেডের অন্তর্ভুক্ত।
এতে আরও বলা হয়, ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ জিনোম বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে সর্বমোট ৭৩৭টি পয়েন্টে মিউটেশন হয়। যার মধ্যে ৩৫৮টি নন সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটায়। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের মিউটেশনের হার বার্ষিক ২৪ দশমিক ৬৪ নিউক্লিওটাইড। সারাবিশ্বে নমুনা প্রতি মিউটেশন হার ৭ দশমিক ২৩। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৬০ লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি অনেক দ্রুত গতিতে এর রূপ পরিবর্তন করছে। স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিউক্লিওটাইড নিউটেশনের মধ্যে ৫৩টি নন সিনোনিমাস এমোনিয়া বেশি প্রতিস্থাপন ঘটে, যার মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র। যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি। সংগৃহীত নমুনা সময়ের মধ্যে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে চারটি নিউটেশনের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়।
গবেষণার ফলাফল প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং কয়েকটি রিসার্চ পেপার ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে উল্লেখ করে বলা হয়, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভাক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, আমেরিকার প্রতিষ্ঠান মর্ডানা, দ্য ইউনির্ভাসিটি ও অক্সফোর্ডসহ করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা ৫০টি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ করোনা উপযোগী ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং বিসিএসআইআর তার অংশীদার হওয়ার গৌরব অর্জন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।
বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখের সভাপতিত্বে এই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এ সময় বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির অন্যান্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪