করোনা: একদিনের ব্যবধানে চলে গেলেন চার চিকিৎসক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসকরা। বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভাইরাসটির ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন চিকিৎসক।
বুধবার দিবাগত (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শহীদুল আনোয়ার।
চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারির সাবেক এ চিকিৎসক ঈদের পরদিন ২৬ মে থেকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের হলুদ জোনে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় সংক্রমিত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চারদিন আগে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তাঁকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তাঁর অক্সিজেনের স্যাচুরেশান কমে যায়। ২৪ জুন রাতে তিনি মারা যান।
ডা. শহীদুল চান্দগাঁওয়ে বণি হাসান চক্ষু হাসপাতালের কনসালটেন্ট ছিলেন। নগরের জামালখান এলাকায় ব্যক্তিগত চেম্বারেও রোগী দেখতেন তিনি।
ফটিকছড়ির গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ১৫তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থীকে দাফন করা হয়েছে।
নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাজধানীর আল-মানার হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। বুধবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এই ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের একাদশতম ব্যাচের ডা. মিনার জানান, কয়েকদিন আগে ডা. মো. সাইফুল ইসলামের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর পর থেকে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

এক পর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান।
সিরাজগঞ্জের সন্তান ডা. মো. সাইফুল ইসলাম ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
একই দিন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে প্রাণ হারান প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ইউনুস আলী খান মৃতুবরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এ সন্তান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুরের বর্ষীয়ান এই চিকিৎসক গত ১০ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ইমপালস হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়। পরে ভ্যান্টিলেশন সাপোর্টে নেয়া হয়। এর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় প্লাজমা থেরাপী দেয়া হয়। ভ্যান্টিলেশনে থাকা অবস্থাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে পাবনা-সিরাজগঞ্জজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছিল।
এর পর দিন ২৫ জুন সকালে মারা যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. ফিরোজা বানু মিনু। ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।
তাঁর স্বামী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট ডা. শফিকুর রহমান রুনু একই হাসপাতালে করোনায় আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
-
১৯ মে, ২০২৬
-
০৪ মে, ২০২৬
-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
২০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
২৬ মার্চ, ২০২৬
-
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬