চমেক হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে স্বজনদের উত্তেজনা: দায়িত্বরতদের ওপর চড়াও-ভাঙচুর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৪ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে মাহফুজুর রহমান নামের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের কক্ষ, কাচের জানালা এবং জরুরি ইসিজি মেশিন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, গর্ভবতী নার্স ও ওয়ার্ডবয়ের ওপর চড়াও হওয়াসহ হামলার অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে।
শনিবার দিবাগত রাত (১১ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে মুমূর্ষু অবস্থায় মাহফুজুর রহমানকে ১৪ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাউন্সেলিং শেষে রোগীকে জরুরি আইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
আইসিইউ ও ইসিজির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রাত চারটার দিকে রোগীর মৃত্যু হয়। এ সময় ইসিজি মেশিন নিয়ে ওয়ার্ডে আসতে কিছুটা দেরি হওয়ার অভিযোগ তুলে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে রোগীর এক স্বজন (মেয়ে) কর্তব্যরত স্টাফদের গালাগাল শুরু করেন এবং ওয়ার্ডবয়কে থাপ্পড় মারেন। এরপর উপস্থিত রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের একমাত্র ইসিজি মেশিনটি আছড়ে ভেঙে ফেলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরবর্তীতে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কক্ষেও। বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা চিকিৎসকদের কক্ষের দরজা ও কাচের জানালা ভেঙে ফেলেন এবং নার্সিং স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার খাতা ও ফাইলপত্র তছনছ করেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ইন্টার্ন চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানান, রোগীকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাকে আইসিইউতে রেফার করে স্বজনদের জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেওয়ার মাঝেই রোগী মারা যান। এর পরই হঠাৎ করে ওয়ার্ডে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চিকিৎসকদের কক্ষের দিকে ভারী বস্তু ছুড়ে মারে এবং পুরো কক্ষ ভাঙচুর করে।
ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক অন্তঃসত্ত্বা স্বাস্থ্যকর্মী (যিনি যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন) জানান, ‘আমি নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের এন্ট্রি নিচ্ছিলাম, এমন সময় তারা ধেয়ে আসে। আমার অবস্থা দেখে অন্য রোগীর স্বজনেরা আমাকে দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সাহায্য করেন। হামলাকারীরা আমাদের পুরো টেবিল এলোমেলো করে ফেলে।’
আক্রান্ত ওয়ার্ডবয় জানান, ‘চিকিৎসকের নির্দেশে আমি ইসিজি মেশিন নিয়ে ওয়ার্ডে যাই। নার্স ইসিজি করার আগেই রোগীর স্বজন আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত তোলেন। এরপর সবার সামনেই ইসিজি মেশিনটি ভেঙে তছনছ করে দেন। এ মেশিনটি সবার চিকিৎসার জন্য ছিল, এখন অন্য রোগীদের ভোগান্তি কে দেখবে?’
ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীর স্বজনেরা সরকারি হাসপাতালের সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘রোগীর অবস্থা যে আশঙ্কাজনক, তা ডাক্তাররা আগেই বলে দিয়েছিলেন। হঠাৎ মৃত্যুর পর এভাবে সরকারি হাসপাতালের সম্পদ ও ইসিজি মেশিন ভাঙচুর করা মোটেও ঠিক হয়নি। এই মেশিনটা ভাঙায় এখন কাল থেকে অন্য রোগীরা ইসিজি করতে পারছে না। সরকারি সম্পদ মানে তো আমাদেরই সম্পদ। একজনের অন্যায়ের কারণে এখন বাকি সব রোগীর কষ্ট হচ্ছে।’
কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ও শয্যা সংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকেন। এ অবস্থায় সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে রোগীদের স্বজনদেরও সহনশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন, নতুবা চিকিৎসকদের পক্ষে সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর রোগীর অপর এক স্বজন (মামাতো বোন) সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়ার পর ছোট বোন মানসিকভাবে শক্ত থাকতে না পেরে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে, যার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। ডাক্তারদের কোনো গাফিলতি ছিল না। আমরা চাই আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং দ্রুত মৃতদেহ দাফনের জন্য আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।’
মারা যাওয়া রোগীর মামা বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসার প্রতি বা মেডিকেলের প্রতি কোনো অভিযোগ বা আপত্তি নেই। ভুলবশত মেয়েটি উত্তেজিত হয়ে এ কাজ করেছে। আমরা মুচলেকা দিয়ে হলেও লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।’
জেএইচ/
-
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল
জরুরি-ওয়ার্ডের ভিড়ে সাধারণ রোগীকে ক্যানুলা পরিয়ে দিতে না পারায় নারী চিকিৎসককে হেনস্তা
-
০৬ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৬ অক্টোবর, ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি
রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য নয়: এনডিএফ
-
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি
দিনাজপুর মেডিকেলে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, আহত ৫
-
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬