এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় আইসিডিডিআর,বি'র ড. তাহমিদ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিশু পুষ্টি ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর এই তালিকা প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’। এতে ড. তাহমিদ আহমেদ ছাড়াও বাংলাদেশের আরও দুই বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত এশিয়ান সায়েন্টিস্টের এই তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদ লাইফ সায়েন্সেস ক্যাটাগরিতে এ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
গবেষকদের এই আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেতে হলে পূর্ববর্তী বছরে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে বড় কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, পুরস্কার কিংবা অ্যাকাডেমিয়া ও শিল্প খাতে নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হয়। আন্তর্জাতিক এই তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের অনারি (সম্মানিত ব্যক্তি) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।
মাতৃ ও শিশু পুষ্টির উন্নয়ন এবং তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. তাহমিদ ২০২৫ সালে ‘টাইম ১০০ হেলথ’ স্বীকৃতি পান। এর আগে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে ২০২৪ সালের ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত হন।
ড. তাহমিদ পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল এবং নটরডেম কলেজে। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালে আবাসিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং পরে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। পরে ১৯৮৫ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে আইসিডিডিআর,বিতে যোগ দেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক হন তিনি। ২০২০ সালে করোনা মহামারির শুরুর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের শুরুতেই নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পান। আইসিডিডিআর,বি’র ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) পুষ্টি নির্দেশনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দলের সদস্য হিসেবে শিশুদের তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও সংশোধনে অবদান রেখেছেন ডা. তাহমিদ আহমেদ। এছাড়া বিশ্বব্যাপী কলেরা কেস কন্ট্রোল টাস্ক ফোর্সকে (জিটিএফসিসি) শিশুদের কলেরা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি।
ড. তাহমিদ ৫৪টি কমনওয়েলথ দেশের শিশু হজম ও পুষ্টিবিদ্যার পেশাজীবীদের একটি সংস্থা কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএনটারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের (সিএপিজিএএন) সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে জনস্বাস্থ্য পুষ্টির অধ্যাপক এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্লোবাল হেলথে অ্যাফিলিয়েটেড অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৩ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরপ তাকে ড. সুলতান আহমেদ চৌধুরী স্বর্ণপদক প্রদান করে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স। ২০১৮ সালে তিনি ইসলামি ব্যাংক ডেভেলপমেন্ট ট্রান্সফরমারস রোডশো অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণা ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি শিশুদের সুস্থ জীবনের সূচনা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী পুষ্টিগত ফলাফল উন্নত করার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ড. তাহমিদ আহমেদ ৫১৪টি গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান ও সহ-লেখক, যা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা বা বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণার প্রধান বিষয় অপুষ্টি।
এই তালিকায় স্থান পাওয়া আরও দুই বাংলাদেশী বিজ্ঞানী হলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মারজানা আক্তার ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডায়স অ্যান্ড কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।
মারজানা আক্তার বাংলাদেশের পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করার কারণে এবং ড. মোহাম্মদ আব্বাস পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল শিল্প ও কম কার্বন নির্গমন নিয়ে গবেষণা করে এই গৌরব অর্জন করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন এই অঞ্চলের বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা গবেষক এবং উদ্ভাবকদের সম্মানিত করে ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকাটি প্রকাশ করে।
এমআর/এমআই
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’