নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ আশার আলো: বিএমইউ ভিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অপরিণত এবং কম ওজনের নবজাতকসহ সকল নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাস, রোগ প্রতিরোধ ও জীবন রক্ষায় ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) মডেল আশার আলো ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, নবজাতকের জীবন রক্ষায় কেএমসির অবদান ও গুরুত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এ পদ্ধতি সম্পর্কে নীতি নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (২০ মে) বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএমইউ ভিসি।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অপরিণত এবং কম ওজনের নবজাতকদের জীবন বাঁচাতে কেএমসি হলো অনুসরণীয় ও আদর্শ পদ্ধতি। কেএমসি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে নিওন্যাটোলজি বিভাগের ডা. রুম্পা মনি চৌধুরী জানান, ১৫ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার সচেতনতা দিবস। এটি একটি বৈশ্বিক দিবস, যা ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি ও পরিবার একসঙ্গে উদযাপন করে আসছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্থিরতাই শক্তি’।
ডা. রুম্পা বলেন, কেএমসি নবজাতকের মৃত্যুহার এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকি কমায়। এটি হাইপোথার্মিয়া, হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও মারাত্মক সংক্রমণ বা সেপসিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি দ্রুত বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে, একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়কাল বাড়াতে এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, কেএমসি হলো অপরিণত এবং কম ওজনের নবজাতকের জন্য একটি ‘প্রোটোকলভিত্তিক সেবা পদ্ধতি’, যা নবজাতক ও মায়ের অথবা সেবাদানকারীর মধ্যে ত্বক-থেকে-ত্বকের স্কিন টু স্কিন সংস্পর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মাতৃসেবা সমন্বয়ে নবজাতক নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোতে এই পদ্ধতি চালুর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জোরালোভাবে সুপারিশ করে যে, জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব কেএমসি শুরু করা উচিত এবং শিশুর স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।
আরো জানানো হয়, মাদার নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট হলো আর একটি এমন সেবা মডেল, যা জন্ম থেকে হাসপাতাল ত্যাগ পর্যন্ত মা ও শিশুর মধ্যে কোনো বিচ্ছিন্নতা হতে দেয় না। এর মাধ্যমে নবজাতকের নিবিড় বা বিশেষ সেবার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) নিশ্চিত করা যায়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ও শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়াও নিওন্যাটোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/