৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৬ পিএম

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর প্রথম মেডিকেল কলেজ, ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষেই কার্যক্রম শুরু

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর প্রথম মেডিকেল কলেজ, ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষেই কার্যক্রম শুরু
চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম মেডিকেল কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম মেডিকেল কলেজ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) নগরীর বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মানদণ্ড অনুসরণ করে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ৫০ জন বেসামরিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে এর শিক্ষা কার্যক্রম।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এ আধুনিক মেডিকেল কলেজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে এরই মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে পাঁচ বছর মেয়াদি চিকিৎসাশিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং একই সঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিল, মানবিক সহায়তা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সেই পথচলারই এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইল ফলক হলো নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম। এই প্রতিষ্ঠান কেবল নৌ সদস্যদের সন্তানদের জন্যই নয়, বরং দেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এক দিগন্ত উন্মোচন করবে। 

তিনি আরও বলেন, গত ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট থেকে অদ্যবধি নৌ সদস্যরা দেশ ও জাতির প্রয়োজনে আত্মনিয়োগ করেছেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে চলেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেভি মেডিকেল কলেজটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সকল স্তরে সকল পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া এই কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন চিকিৎসায় এক বিশেষায়িত ভূমিকা পালন করবে।

এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তর ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অতিথি, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

দেশে মেডিকেল কলেজ ও এর আসন

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৩৭টি সরকারি ও ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। 

অন্য দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছয়টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধীনে বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুর একটি করে আর সশস্ত্র বাহিনী চিকিৎসা শাখার (ডিজিএমএস) মাধ্যমে ঢাকায় পরিচালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি)।

সরকারি মেডিকেলে পাঁচ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারিতে ছয় হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পেতেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে বিন্যাসের পর সরকারিতে পাঁচ হাজার ১০০ এবং বেসরকারি মেডিকেলের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় হাজার একটি।

আর সেনাবাহিনীর ছয়টির মধ্যে বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুরে পরিচালিত মেডিকেলে ৫০টি করে আড়াইশ’ এবং এএফএমসিতে ১২৫টি আসন রয়েছে। আর নতুন করে চট্টগ্রামে চালু হওয়া নৌবাহিনীর মেডিকেলে ৫০টি আসন রয়েছে।

সেই হিসাবে সরকারি, বেসরকারি, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে আসন সংখ্যা হলো ১১ হাজার ৫২৬টি।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক