হাম পরিস্থিতি পরিদর্শনে শিশু হাসপাতালে জামায়াত আমির, ব্রঙ্কোস্কোপ দেওয়ার আশ্বাস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর শ্যামলী শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের দেখতে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি হাম আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ছাড়াও আরও কিছু ওয়ার্ড আমরা পরিদর্শন করেছি। তারা তাদের সামর্থ্যের ভেতরে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা এ বিষয়ে কথা বলব, কাজ করব ইনশাআল্লাহ। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সামাজিক কল্যাণে সবসময় চিন্তা করে এবং কিছু অবদান রাখার চেষ্টা করে। এই হাসপাতালে সে বিষয়ে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি।’
ব্রঙ্কোস্কোপ দেওয়ার ঘোষণা
তিনি বলেন, ‘এর বাইরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে আরেকটি বিষয় প্রত্যাশা করেছেন। এখানে ব্রঙ্কোস্কোপ নেই, অথচ বেশিরভাগ শিশুর এ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। তারা এ যন্ত্রটির বিষয়ে আমাদের কাছে প্রত্যাশা জানিয়েছেন। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিশুরা আমাদের কাছে আমানত, তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রতি সম্মান রেখে আমরা চেষ্টা করব, তাদের এই পরামর্শ বা দাবিটি বাস্তবায়ন করতে পারি কি না।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় সামাজিক কল্যাণে কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তিনি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আইসিইউ স্থাপন করায় সরকারকে ধন্যবাদ
সরকারের উদ্যোগে আইসিইউ স্থাপন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে সরকারের আরও দায়িত্ব রয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। শুধু সরকারি তহবিল নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও জনগণের কল্যাণে কাজ করা উচিত।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই হাসপাতালটি সরকারি নয়, এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সরকার আগে প্রতি বছর ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মাত্র সাত কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা কঠিন।
তিনি জানান, হাসপাতালটিতে ৭০০টি শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ২৫০টি ফ্রি। বাকি শয্যাগুলোর জন্য রোগীদের খরচ বহন করতে হয়। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ হাসপাতালটির প্রতি সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে হাম রোগের পরিস্থিতি বোঝার জন্যই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এটি দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হওয়ায় সারা দেশ থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
হাম আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য একটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থাপন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। শয্যা সংখ্যা ২ হাজারে উন্নীত করা গেলে রোগীদের চাপ কিছুটা কমবে। এ সময় শিশু হাসপাতালের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় তিনি রাজধানীর আসাদ গেট সংলগ্ন একটি পেট্রল পাম্পও পরিদর্শন করেন এবং জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
টিআই/এমইউ