২২ জুলাই, ২০২৫ ০৫:০০ পিএম

আহত-নিহতের সংখ্যার বিভ্রান্তি নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যের বিশেষ সহকারী

আহত-নিহতের সংখ্যার বিভ্রান্তি নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যের বিশেষ সহকারী
ব্রিফ করছেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যেও পার্থক্য রয়েছে। এ অবস্থায় বিভ্রান্তি নিরসনে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১৬৫ জন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ২৯ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৬৯ জন। নিহতদের মধ্যে দুজন শিক্ষক রয়েছে। আর ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো পুড়ে যাওয়ার কারণে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে একটি প্রায় কয়লা হয়ে গেছে। তাদের ডিএনএ স্যাম্পল রাখা হচ্ছে, কেউ নিখোঁজ দাবি করলে ডিএনএ ম্যাচ করে তাদের চিহ্নিত করা হবে।

ইতোমধ্যে চারজন অভিভাবক নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানে এসেছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, তবে এখনও ম্যাচ করা হয়নি। ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া বেশ সময় সাপেক্ষ।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, আএইসপিআরের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এর কারণ উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল থেকে একজনের মৃতদেহ সিএমএইচে নেওয়া হয়েছিল। সেটিকে বাড়তি হিসাবে সিএমএইচে ১৬ জনের মরদেহ রয়েছে বলে দেখিয়েছে আইএসপিআর। তবে প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল থেকে নেওয়া মরদেহসহ মোট ১৫টি মরদেহ রয়েছে সিএমএইচে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আসার আগেও নিশ্চিত হয়েছি, সিএমএইচে ১৫ জনেরই মৃতদেহ আছে। আইএসপিআরের তথ্যে সেখানে ১৬ জন বলা আছে।’

বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আইএসপিআরের রিপোর্টে লুবানা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য রয়েছে। কিন্তু আমরা ওই হাসপাতালে যোগাযোগ করেছি, তাদের রেজিস্ট্রিতে কোথাও কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে তারা বলছেন, সেখানে দু’জন শিশুর মরদেহ ছিল, যাদেরকে তাদের অভিভাবকরা নিয়ে এসেছেন। পরবর্তীতে তারা কোনো হাসপাতালে আসেননি, বিধায় আমাদের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় তাদের রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা অনুরোধ করবো, ওই অভিভাবকরা যেন তাদের নামগুলো তালিকাভুক্ত করতে আমাদের সাহায্য করেন।’

আহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব হাসপাতাল মিলে ভর্তি আছে ৬৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে তিনজন ছিলেন, যারা বার্নে শিফট হয়েছেন। সিএমএইচ থেকে তিনজনকে বার্নে পাঠানোর জন্য অনুমতি নিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ওখানে এখন পর্যন্ত ২৮ জন চিকিৎসাধীন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেটা কমে যাবে। অর্থাৎ এই সংখ্যাটা একেবারে স্ট্যাটিস্টিক না। আবার একজন পেশেন্ট বাসায় চলে গেছেন।’

১৬৫ জন আহতের তথ্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, উত্তরা আধুনিকে ৬০ জন এবং লুবানাতে ১৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের ডুপ্লিকেশন ঘটেছে। সেখানে এই মুহূর্তে দু-তিনজন রোগীও নেই বলেও জানান তিনি।

মূলত রোগীর আসা-যাওয়া ও বারবার হাসপাতাল স্থানান্তরের কারণে সংখ্যার বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন। রেকর্ড কিপিং এবং মুভমেন্টের কারণে সংখ্যাটা উঠানামা করছে। এই তথ্যের পার্থক্যগুলো দূর হতে হয়তো একটু সময় লাগবে, যেহেতু মৃতদেহ এবং দেহাবশেষ নিয়ে কিছু পার্থক্য আছে। সংখ্যার বিভ্রান্তি দূর করতে একটু সময় দেন। আমরা এখানে আসার আগেও চেষ্টা করেছি এই বিভ্রান্তি দূর করার। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি দূর হয়ে যাবে।’

আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম কাজ করছে। এই হাসপাতাল (জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট), এনআইসিভিডি (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট), নিকডু (জাতীয় কিডনি ও ইরোলজি ইনস্টিটিউট) এবং  বিএমইউসহ (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সকল প্রতিষ্ঠানের আটটি ডিসিপ্লিনসহ একটি টিম সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপানাটিকে ইভ্যালুয়েট (পর্যালোচনা) করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইন্টারভেনশন (পদক্ষেপ), প্রয়োজনীয় ফ্লুইড (তরল উপাদান) এবং মেডিসিন ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বার্ন ইনস্টিটিউটে থাকা দু’জনকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে। এটিকে আমরা উন্নতি বলে মনে করছি। এ ছাড়া মাল্টিডিসিপ্লিনারি ইভ্যালুয়েশনে অন্তত ১০ জনকে শঙ্কামুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩০ জন এখনও অস্পষ্ট জায়গায় আছে, যার মধ্যে ১০ জনকে শঙ্কার মধ্যে আছেন বলে মনে করছি। বাকিরা মাঝামাছি জায়গায়।’

এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসায় আজ রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দল বাংলাদেশে পৌঁছাবেন বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই হাসপাতালের সঙ্গে যাদের এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) আছে, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল—তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদেরকে কেস রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং দুইজন নার্স আজকে রাতে এসে পৌঁছাবেন। আমরা আশা করি, আগামীকাল তারা এই টিমে জয়েন করতে পারবেন।’

আহতদের চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন আছে কিনা—জানতে চাইলে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞদের এটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু বিশেষজ্ঞের সকল ব্রাঞ্চ এই টিমের সঙ্গে যুক্ত, যেহেতু রোগীরা প্রধানত শিশু।’

প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশি চিকিৎসকরাও কিছু সরঞ্জামাদি নিয়ে আসবেন। এরপরও যদি তারা জানান যে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম আমাদের কাছে নেই, সেক্ষেত্রে বাইরে পাঠানো হবে।’

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : উত্তরার বিমান দুর্ঘটনা
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক