২২ জুলাই, ২০২৫ ১২:৫৫ পিএম

‘আমি আর এ দেশে থাকব না’—১৪ বছরের সন্তানকে হারিয়ে শিক্ষক বাবা

‘আমি আর এ দেশে থাকব না’—১৪ বছরের সন্তানকে হারিয়ে শিক্ষক বাবা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে মাত্র ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ান ইউসুফ রাত ৩টা ৫০ মিনিটে বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

মর্গের সামনে সায়ানের নিথর দেহের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা ইউসুফ। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেমিস্ট্রির সহকারী অধ্যাপক। তার স্ত্রীও একই কলেজের কেমিস্ট্রির লেকচারার। কিন্তু আজ সব পরিচয়ের ওপরে তিনি কেবল এক সন্তানহারা পিতা। কান্নায় গলা ভার হয়ে যাওয়া কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বললেন, ‘আমি আর এ দেশে থাকবো না। এদেশের পলিটিশিয়ানরা এদেশটাকে পলিউট করে ফেলছে। আমরা থাকবো না এই দেশে।’

তিনি আরও বলেন, সকালে যেসব বাবা-মা সন্তানের হাত ধরে স্কুলের গেটে নামিয়ে দিয়ে ফিরেছিলেন কর্মস্থলে, তাদের অনেকেই সন্ধ্যার আগেই ছুটে এসেছেন হাসপাতালের মর্গে। কেউ বুঝতেই পারেননি কখন তাদের সন্তানকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স করে কেউ নিয়ে এসেছে। আবার কেউ এখনো জানেন না, তাদের সন্তান বেঁচে আছে কি না। যারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের অভিভাবকরা একরাশ শঙ্কা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন।

এদিকে বার্ন ইউনিটের লবিতে চাপা কান্নার শব্দ যেন ধ্বনিত হচ্ছে প্রতিটি দেয়ালে। কেউ নির্বাক, কেউ ভেঙে পড়েছেন অজ্ঞান হয়ে। শুধু বার্ন ইনস্টিটিউট নয়, শোক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা নগরজুড়ে। কোনো শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ছুটি পাওয়ার আগেই চিরতরে ছুটি নিয়ে ফেলেছে পৃথিবী থেকে।

সায়ানের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, রাত তিনটা থেকে কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। ‘ওসির আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত তিনটার পর থেকে এখানে কোনো পুলিশ নেই। পাঁচটা লাশ অররেডি মর্গে আছে,’ কাঁদতে কাঁদতে বলেন সায়ানের এক আত্মীয়।

সায়ানের মা সেই মুহূর্তে কিছু বলার অবস্থায় ছিলেন না। চিকিৎসকরা তাকে স্যালাইন দিয়ে সামলে রাখছিলেন। সন্তানের পুড়ে যাওয়া হাত যখন তারা দেখতে পেলেন, তখন চোখ দিয়ে আর শুধু পানি গড়ায়নি গড়িয়েছে এক নিঃশেষ হওয়ার বেদনা।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় সেখানে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ব্যাপক, যার বেশিরভাগই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

এসএইচবি/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : উত্তরার বিমান দুর্ঘটনা
হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক