২৮ বছরে পদার্পণ করলো বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গৌরবের ২৭ বছর পূর্ণ করে ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। গবেষণায় মঞ্জুরি প্রদানসহ বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট, এডুকেট, এলিভেট—ড্রিমস টু দ্য রিয়্যালিটি’।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ২৮তম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বুধবার বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। একই সাথে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদানও করেছে বিএমইউ প্রশাসন। এ ছাড়া পূবালী ব্যাংকের সৌজন্যে নতুন দুটি স্টাফ বাস উদ্বোধন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে চিকিৎসারতসহ রোগীদের মাঝে উন্নত খাবার পরিবেশ করা হয়েছে। জোহর নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কামনায় মোনাজাত পরিচালনাও করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও কর্মচারীরা তাদের জন্য আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ সাধারণ রোগী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের জন্য উৎসর্গ করেছেন। এই অর্থ দিয়ে তাদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের মিলনায়তনে ‘বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: প্রত্যাশা বনাম অগ্রগতি’ বিষয়ক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, গবেষণার জন্য শুধু গবেষণা নয়, গবেষণা হবে জনকল্যাণ ও উদ্ভাবনমূলক। নিত্যনতুন জ্ঞানের সৃষ্টি, ওষুধ আবিষ্কার, ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অবদান রাখতে হবে। উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষাসহ স্বাস্থ্যখাতে সঠিক নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতে বিএমইউকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে, যা কেবল গবেষণার মাধ্যমেই সম্ভব। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনবল তৈরিতে নেতৃত্ব দিতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন ও মান বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। গুরুত্বারোপ করেন ডিজিটালাইজেশন, ই লগ বুক চালু, টেলিমেডিসিন চালু এবং বিশেষজ্ঞ নার্স তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে।
সভাপতির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপকা শাহিনুল আলম বলেন, বিপ্লবোত্তর চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষ ও রোগীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও উদ্ভাবনমূলক গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করা হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী টেকনোলজি ও নার্সিং সেবার উন্নয়নেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জ্ঞান উৎপাদন করা। সে লক্ষ্য পূরণে গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে গবেষণা হবে সহজ ও মানুষের কল্যাণধর্মী। গবেষণার মাধ্যমেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এর আগে বি ব্লকের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানোর পর একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি বি ব্লক থেকে বের হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হয়ে সি ব্লকের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর শহিদ ডা. মিল্টন হলে গবেষণা মঞ্জুরী প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ৫৬ জন শিক্ষক ও চিকিৎসকের মাঝে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়।
এ সকল কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন, অধ্যাপক ডা. মো. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর, অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন, পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ্ মুন্সী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, চিফ এস্টেট অফিসার ডা. মো. এহতেশামুল হক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার-১ ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড) ডা. মো. শাহিদুল হাসান বাবুল, অতিরিক্ত পরিচালক (অডিট) খন্দকার শফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভুঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীনে মুজাহিদ ফারুক ওসমানী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. আ স ম নওরোজ, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারাহ নূর, ডা. শাহরিয়ার শামস, ডা. আকবর হোসাইন, কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, ইয়াহিয়া খান, মো. মারুফ হোসেন, মো. লুৎফর রহমান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. মোশারফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান, শামীম আহম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতকোত্তর কোর্স প্রদানের জন্য ১৯৬৫ সালে ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমআর) প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান সরকার। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণার দায়িতপ্রাপ্ত হলেও এই সংস্থার ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা ছিল না। এটি ন্যস্ত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। আইপিজিএমআর কার্যক্রমসহ অনেকগুলো মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ডিগ্রি প্রদান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল সংসদীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় আইপিজিএমআর। এমবিবিএস কোর্স চালু করা হলেও এই প্রতিষ্ঠানে পূর্বাপর কেবল স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রদান করা হতো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে।
এনএআর/
-
২ ঘন্টা আগে
-
১৭ মে, ২০২৬