বিএমইউতে সেগমেন্টাল পাসের এক দফা দাবিতে চিকিৎসকদের সমাবেশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেগমেন্টাল পাসের এক দফা দাবিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) সমাবেশ করেছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকে মিলন অডিটোরিয়ামের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত/অপস/ওরাল কিংবা ক্লিনিকেল যে সেগমেন্টে অকৃতকার্য হবেন, শুধু সেই সংশ্লিষ্ট সেগমেন্টে অংশগ্রহণ করে কোর্স সম্পন্ন করার যৌক্তিক সুযোগ দেওয়ার দাবি করা হয়।
সেগমেন্টাল পাশের একদফা দাবির নেপথ্যে বৈচিফের ব্যাখ্যা—
১. অধিকাংশ ডিসিপ্লিনে পাশের হার খুবই কম, এমন কি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কিছু সাবজেক্টে পাশের হার শূন্য শতাংশ পর্যন্ত আছে।
২. যেখানে বাংলাদেশের উপজেলা, জেলা এমনকি বিভাগীয় স্তরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল, সেখানে এভাবে অকৃতকার্যের (Fail) হার বজায় থাকলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির সম্মুখীন হবে শীঘ্রই। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ তৈরি না হলে বিশেষজ্ঞ সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া অসম্ভব।
৩. সেক্ষেত্রে সেগমেন্টাল পাশ হলে পাশের হার স্বয়ংক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বেড়ে যাবে।
৪. সেগমেন্টাল পাশের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর উপর চাপ কমবে, সুচারুরূপে অকৃতকার্য অংশের প্রস্তুতি ভালোভাবে নেয়া যাবে।
৫. পরীক্ষার্থীর গুণগত মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। কারণ যে পরীক্ষার্থী লিখিত ও ওএসপিই পাশ করলো, কিন্তু ক্লিনিকেল পাশ করতে পারলো না, সে যদি পরবর্তী পরীক্ষা শুধু ক্লিনিকেলের প্রস্তুতি নেয়, তাহলে প্রস্তুতি অধিক সুসংহত ও আত্মবিশ্বাসীপূর্ণ হবে।
৬. যে বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, যে পরীক্ষার্থী একবার যে সেগমেন্ট কৃতকার্য হলো এবং অভিজ্ঞ বিচক্ষণ পরীক্ষক মহোদয়বৃন্দের সুনিপুণ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৬০ শতাংশ নাম্বার পেয়ে পাশ করলো। সেহেতু পরবর্তীতে অন্যান্য অকৃতকার্য বিষয়ের সাথে উক্ত কৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় অংশগ্রহণ করাটা স্যারদের মূল্যায়নের প্রকারান্তরে অবমূল্যায়ন করা এবং সময় শ্রম ও সামগ্রিক সিস্টেম ক্ষতি।
৭. একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরী যে— আমাদের দেশের স্বনামধন্য একটি ডিগ্রী এফসিপিএসে রিটেন পাস করলে পরপর দুইবার ক্লিনিকেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন পড়ে না (অর্থাৎ সেগমেন্টাল পাশ রয়েছে) অথচ আমাদের এমডি/এমএস/ডিপ্লোমা/এমফিল/এমপিএইচ পরীক্ষায় এ ধরনের কোন সুযোগই নাই, যা একটি চরম বৈষম্য। বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর মার্কশীট থেকে পরিসংখ্যানগত উপাত্ত নিয়ে সেগমেন্টাল পাশের জন্য একটি স্ট্রাকচারড ফরম্যাট ইত্যবসরে বৈচিফ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রায় ৮০ টি অনুষদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য, প্রো-ভিসি একাডেমিক, প্রো-ভিসি গবেষণা এবং ভিসি অধ্যাপক ডা. শাহীনুল আলমকে প্রদান করেছে।
৮. বিএমইউ অধীনসহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সসমূহে অকৃতকার্যের এই পরিকল্পিত দুষ্ট চক্র আর এভাবে চলতে পারে না।
৯. সেগমেন্টাল পাশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটাই হবে সর্বোচ্চ আন্দোলন, যেখানে বৈচিফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৈষম্য এবং সকল এক নায়ক পরীক্ষকদের যথেচ্ছাচারিতার নৈরাজ্য দেয়াল ভাংগতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। কোর্স আউট আন্দোলনের চেয়েও কয়েকগুণ শক্তিশালী এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আন্দোলন সফল করার জন্য সকল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক, শিক্ষার্থীদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ ও সংগ্রামী আহ্বান জানিয়েছে বৈচিফ।
এমআই/
-
১৪ এপ্রিল, ২০২৫