২৪ জানুয়ারী, ২০২৫ ০৭:৪৯ পিএম

অধ্যাপক কামরুলকে দেখে অনুপ্রাণিত ফাইয়াজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চতুর্থ

অধ্যাপক কামরুলকে দেখে অনুপ্রাণিত ফাইয়াজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চতুর্থ
মো. আবুল ফাইয়াজ। ছবি: মেডিভয়েস

২০২৪-২৫ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় চতুর্থ হয়েছেন দিনাজপুরের কৃতি শিক্ষার্থী মো. আবুল ফাইয়াজ। কঠোর অধ্যাবসায় ও নিয়মিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি।

গত ১৯ জানুয়ারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর ফাইয়াজের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েসের। আলাপচারিতায় উঠে আসে ঈর্ষণীয় সাফল্যের নেপথ্য কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু নাঈম মনির, সঙ্গে ছিলেন সাইদুল ইসলাম সাঈদ ছবি তুলেছেন আবু সাঈদ

অনুভুতি

আবুল ফাইয়াজ: পরীক্ষা দেওয়ার পর বুঝতে পারছিলাম ভালো একটা ফলাফল হবে। কিন্তু দেশের মধ্যে জাতীয় মেধা তালিকায় চতুর্থ, এটি আসলে কল্পনার বাইরে ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে তা সম্ভব হয়েছে। অনুভূতি বলে বুঝানোর মতো নয়। বাবা-মা, পরিবার, আত্নীয়-স্বজন—সবাই অনেক খুশি। আমি তাঁদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারছি, এজন্য আমি খুশি এবং আনন্দিত।

সফলতার পিছনের গল্প

আবুল ফাইয়াজ: বাবা-মা বা পরিবারের পক্ষ থেকে আমার উপর কোনো চাপ ছিল না যে—ডাক্তারি করতে হবে বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমাকে বলা হয়েছিল, যাই করি যেন ভালোভাবে করি, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো, আল্লাহর রহমতে যা হওয়ার হবে। এছাড়া আমি পরিবারের সবার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি, তাঁরা অনেক দোয়া করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। বড় ভাই-বোনদের থেকে গাইডলাইন পেয়েছি।

আমি সব শিক্ষক থেকেই সহযোগিতা পেয়েছি, সবাই আমাকে কম-বেশি স্নেহ করতেন। সবার আশা ছিল আমি ভালো কিছু করবো এবং তাঁরা বিশ্বাসও করতেন। তবে বিশেষভাবে বলতে গেলে জিহাদি ভাই, তিনি আমাকে ধরে ধরে বায়োলজি বুঝিয়ে দিয়েছেন। কলেজের রসায়ন বিভাগের রাকিব স্যারসহ সকল শিক্ষক অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

মেডিকেলে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা

আবুল ফাইয়াজ: আমার যাত্রাটা ভিন্ন আমি প্রথমে ভাবছিলাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়বো। পরে ঢাকায় থাকা-খাওয়া সমস্যায় পড়ে যাই এবং মানিয়ে নিতে সমস্যা। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং পরিবারের পরামর্শে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকে এসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা। আর আমাদের পরিবারে কোনো ডাক্তার নেই, পরিবার-সমাজের সবার হয়ে কিছু করতে পারি, এটাও মাথায় ছিল। আর একজনের নাম না বললেই নয়, অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম স্যার কিডনি বিশেষজ্ঞ। তাঁকে দেখে আমি অনুপ্রানিত হই এবং তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন এবং করেন। তার নৈতিকতা আর মানুষের প্রতি ভলোবাসা, এই বিষয়টা আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। আর আমি তো স্যারের মতো হতে পারবো না, তবে অবশ্যই স্যারের আদর্শটাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারবো।

যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন

আবুল ফাইয়াজ: আসলে আমার এই বিষয়ে জ্ঞান কম, তবে আমার ইচ্ছা নিউরোলজি বা কার্ডিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করা। আমি মনে করি, মানুষের হার্ট আর ব্রেইন পুরো বডির নিয়ন্ত্রণ করে। আর এখানে সূক্ষ্ম থেকে, সূক্ষ্ম বিষয় থাকে। এখানে অনেক ডেডিকেশন লাগে, আমি মনে করি এখানে আমি ভালো কিছু করতে পারবো, আমার সেই ধৈর্যটা আছে।

মেডিকেলে প্রস্তুতি ঠিক কখন ও কীভাবে শুরু করা উচিত

আবুল ফাইয়াজ: কেউ যদি মেডিকেলে পড়তে চায়, তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষ থেকেই সবগুলো বই বুঝে বুঝে ভালোভাবে পড়া উচিত। আসলে অ্যাডমিশনের সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে নতুন কিছু শিখে ভালো করা খুবই কঠিন হয়ে যায়।

পড়ার রুটিন

আবুল ফাইয়াজ: পড়ার রুটিন বলতে, এগুলো সাধারণত ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। দিনে আমি কলেজ আর বাইরের স্যারদের কাছে পড়তাম। রাতে নিজেকে সময় দিতাম পড়া গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। রাত একটা বা দুইটা পর্যন্ত পড়তাম, আর ছয় ঘণ্টা ঘুমাতাম।

প্রস্তুতির জন্য নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত

আবুল ফাইয়াজ: প্রস্তুতি বলতে নিজের ভুল ধরার জন্য বেশি বেশি পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভুলটা দেখতে হবে। কোথায় ভুল হচ্ছে? ভুলটা বইতে মার্ক করে রাখতে হবে যেন এই ভুল পরবর্তীতে না হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী এভাবে নিজের ভুল অনুসন্ধান করে পড়ে তাহলে তাঁর আর ভুল হবে না। ছোট-খাটো নোট বইয়ে লিখে রাখতে হবে, এটা এটা আমার ভুল হচ্ছে।

কোচিংয়ের ভূমিকা

আবুল ফাইয়াজ: এককভাবে কোনো ব্যক্তির উপর ভূমিকা রাখবে না, সহায়ক হিসেবে সাপোর্ট দিতে পারে, ভর্তি পরীক্ষার জার্নি সহজ করতে পারে। আর কোচিংয়ের বইগুলো পড়লে ভর্তি পরীক্ষায় সুবিধা পাওয়া যায় এবং কোচিংয়ের ভাইয়েরা বুঝিয়ে দেন অ্যাডমিশনে কী কী হতে পারে। আর কোচিং লাগবে এমন কোনো কথা নেই, আর সব প্রশ্ন তো বই থেকে হয়। আর এইচএসসিতে যিনি ভালোভাবে পড়াশোনা করেন, তাঁর তো মূল বই শেষ হওয়ার কথা। আর অ্যাডমিশন বইয়ের বাইরের কিছু না, এইচএসসিতে যা পড়েছি, তার একটু অ্যাডভান্স। আর হঠাৎ করেই তো একদিনে পরীক্ষায় বসা যায় না, অনেকেই নিজেকে যাচাই করার জন্য বিভিন্ন কোচিংয়ে পরীক্ষা দেয়।

যারা ডিএমসিতে চান্স পেতে করণীয়

আবুল ফাইয়াজ: ডিএমসিতে চান্স পাওয়ার মতোই করে যে, পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। মনে মনে লক্ষ ঠিক রাখতে হবে যে, আমি ভালো কিছু করবো। আর নিজের মনের মধ্যে সততা বজায় রাখতে হবে। পাঠ্যবই উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর ডিএমসিতে চান্স পেতে হলে খুব আহামরি কিছু করতে হবে বিষয়টা এমন নয়, শুধু জানা বিষয় ভুল করা যাবে না।

শেষ সময়ের প্রস্তুতি কেমন হওয়া প্রয়োজন

আবুল ফাইয়াজ: শেষ সময়টা খুবই কঠিন। নার্ভাস কাজ করে আগে থেকে যা পড়ে রাখছি, সেগুলো রিভিশন দিতে হবে। শেষ সময়ে নতুন কিছু পড়া যাবে না, তাহলে হতাশা বেশি কাজ করবে।

আর সততা বলতে কেউ কেউ ভাবে অনেক সময় আছে, এইচএসসি শেষ এখন একটু ঘোরাঘুরি করে নেই, একটু আনন্দ-ফুর্তি করি। দেখা যায়, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে থাকে। আর এই বিষয়টা করা যাবে না। আর অ্যাডমিশনে নতুন করে কিছু শেখা যায় না, এইচএসসিতে যেটা ভালোভাবে পড়ে এসেছি, সেটাতেই ভালো করা যায়।

বেড়ে ওঠার গল্প

আবুল ফাইয়াজ: আমার বেড়ে ওঠা গ্রামে। পরে আমি শহরে আসি এবং শহরের সেমপ্লিস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াশোনা করি। এসএসসিতে খুব ভালো একটা রেজাল্ট হয়, তারপর দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি।

এসএইচ
 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক