‘অপরিণত নবজাতকদের সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা জরুরি’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অপরিণত নবজাতকদের জন্য সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক যত্নসহ ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ পদ্ধতির মাধ্যমে এ ধরনের শিশুদের জীবন রক্ষা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অপরিণত বয়সে জন্মগ্রহণকারী নবজাতকদের চিকিৎসার উপর আয়োজিত এক সেমিনারে আলোচকদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে এসেছে।
বিএসএমএমইউর এ-ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘অপরিণত বয়সে জন্মগ্রহণ: সচেতনতাই মূল পদক্ষেপ’ (বর্ন টু সুন: অ্যাওয়ারনেস মাস্ট বি এ কনসার্ন) শীর্ষক এই ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার কমিটি এটির আয়োজন করে।
এ সময় অপরিণত অবস্থায় জন্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গর্ভাবস্থায় সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক চাপ কমানো, অপরিণত নবজাতকের জন্য একটি বিশেষ যত্নের পদ্ধতি ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার নিশ্চিত করা এবং প্রথম এক বছর সমন্বিত চিকিৎসার অধীনে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাব কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে ও ডা. খালেদ মাহবুব মোর্শেদ মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। সেমিনারে মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ ও শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে প্রমাণিত গবেষণার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসায় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য প্রমাণিত গবেষণা, চিকিৎসা সংক্রান্ত অধ্যয়ন (ক্লিনিক্যাল স্টাডি) ও অভিজ্ঞতা একত্রিত করেই যথাযথ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয় বলে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার জ্ঞান বৃদ্ধি করা, সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন করা, গবেষণা ও নতুন নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কনটিনিউ মেডিকেল এডুকেশনের (সিএমই) ক্ষেত্রেও বিরাট অবদান রাখে। তাই সেন্ট্রাল সেমিনারের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সেমিনারে নিওনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান তার উপস্থাপিত ‘প্রিম্যাচুরিটি: অ্যাকসেস টু কোয়ালিটি কেয়ার এভরিহোয়ার’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, অপরিণত নবজাতকদের জন্য সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক যত্নসহ ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ পদ্ধতির মাধ্যমে অপরিণত নবজাতকদের জীবন রক্ষা ও সুস্থতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর দেড় কোটি অপরিণত নবজাতক জন্ম নেয়। তাদের মধ্যে ১০ লক্ষ নবজাতক বিভিন্ন জটিলতায় মারা যায়। এই সংখ্যা মোট নবজাতকের মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ। প্রতি বছর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে ছয় লক্ষ চার হাজার অপরিণত নবজাতক। বিশ্বের ১০৩টি দেশের মধ্যে অপরিণত নবজাতক জন্মদানের হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম। বাংলাদেশে অপরিণত নবজাতক জন্মদানের হার ১৬.২ শতাংশ।
একটি পরিসংখ্যানের বিবরণ দিয়ে অধ্যাপক মান্নান বলেন, বিএসএমএমইউর নিওনেটাল বিভাগের নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি নবজাতকদের ৬৪ শতাংশই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া। তবে এসব শিশুর সুস্থতার হার ৮০ শতাংশ বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা ‘লং-টার্ম নিউরোডেভেলপমেন্টাল আউটকামস ইন প্রিম্যাচুর ইনফান্টস: এভিডেন্স-বেইসড স্ট্র্যাটেজিস ফর ফলোআপ ’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, যে সমস্ত শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে তাদের মধ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশের ভবিষ্যতে স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা—যেমন সেরেব্রাল পালসি, অটিজম, অতিচঞ্চলতা, মৃগীরোগ ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্যে অপরিণতভাবে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের জন্মের প্রথম এক বছর সমন্বিত চিকিৎসার অধীনে রাখা প্রয়োজন।
সেন্ট্রাল সেমিনারে ফিটোম্যাটার্নাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীন উপস্থাপিত ‘প্রিম্যাচুর বার্থ: অ্যান্টি-নেটাল পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বোচ্চ আগাম জন্মের হার রয়েছে। এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রাক-গর্ভাবস্থার যত্ন, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের যত্ন, প্রসবকালীন যত্ন এবং অন্তত চারটি পোস্টনেটাল (প্রসব পরবর্তী) যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক-গর্ভাবস্থা এবং শুরুর অন্তঃসত্ত্বা যত্নে ঝুঁকি নিরসন করা উচিত—যেমন কিশোর বয়সে গর্ভধারণ, একাধিক গর্ভাবস্থা, সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদী রোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, জীবনযাত্রার আচরণ, অপুষ্টি এবং এগুলোর চিকিৎসা করা।
তিনি আরও বলেন, যখন আগাম প্রসবের ঝুঁকি থাকে, তখন নবজাতকের শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট কমাতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে কর্টিকোস্টেরয়েড (এক ধরনের হরমোন) দেওয়া উচিত। একইভাবে শিশুর নিউরোপ্রটেকশনের জন্য মাকে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট দেওয়া উচিত। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক এবং টোকোলাইটিক্স ব্যবহার করা উচিত। ডেলিভারির পর সব অপরিণত নবজাতকের ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার দরকার। এই সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে সর্বনিম্ন খরচে অথবা কোনো খরচ ছাড়াই আমরা আগাম জন্মের তিন চতুর্থাংশ কমিয়ে আনতে পারি।
এমআই/এনএআর/
-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
তিন দিনব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বিএসপিএমআর’র লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত অধ্যাপক কামরুল
-
০২ জুন, ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানে হামলা-ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টা
চাকরি হারাচ্ছেন বিএমইউর চিকিৎসকসহ ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী
-
১৬ মার্চ, ২০২৫
-
১১ মার্চ, ২০২৫