৩১ অগাস্ট, ২০২৪ ১০:০৪ পিএম

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিতের অভিযোগ

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিতের অভিযোগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনজন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কর্মবিরতির হুশিয়ারি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আজ শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

নিউরোসার্জারি বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, সকালে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময় আহসানুল ইসলাম দীপ্ত নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি গতকাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।

তারা বলেন, পরে নিহতের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উপর হামলা করেন। এ সময় তাদের কিল-ঘুসি মারা হয়। এ ছাড়া ধাক্কাও দেওয়া হয় তাদের। এতে তিনজন চিকিৎসক আহত হন।

চিকিৎসকদের উপর হামলার বিচার চেয়ে ডা. সাব্বির হোসেন সাগর বলে বলেন, আমরা স্যারদের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের দুইটি দাবি জানিয়েছি। আজকে রাত ১০টা থেকে ঢামেক হাসপাতালসহ দেশের সকল মেডিকেল হাসপাতালের ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এ ছাড়া ১২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমানাদির আলোকে মামলা দায়ের ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, কিন্তু স্যাররা আমাদের কাছে ২৪ ঘণ্টার সময় চেয়েছেন। আমরা তাদের সময় দিয়েছি। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আমরা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যাব।

জানা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত আহসানুল ইসলাম দীপ্ত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পড়াশোনা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদরে।

দীপ্তর বন্ধু এস কে দাস সঞ্চিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, দীপ্ত মারা গেছে চিকিৎসার অভাবে। সে বাইক এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে ছিল। প্রথমে কুর্মিটলা হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। ওর মোবাইল ও মানি ব্যাগ সব চুরি হয়ে যাওয়ায় পরিচয় পাওয়া যায়নি প্রথমে। যারা দায়িত্ব নিয়েছে, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী তার চিকিৎসা হয়নি! আর ট্রিটমেন্ট রেকর্ডও দেখাতে পারেনি, কোনো আইসিইউ ট্রিটমেন্ট হিস্টোরি, কিংবা একশন কোনো ডকুমেন্ট ই শো করতে পারেনি।

তিনি আরও লিখেছেন, এই ঘটনার সঠিক উত্তর ও প্রমান দেওয়া আবশ্যক! কেননা প্রশ্ন উঠেছে প্রযাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত