২৬ অগাস্ট, ২০২৪ ০৩:৫৬ পিএম

বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফিল্ড হাসপাতাল

বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফিল্ড হাসপাতাল
ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বন্যাদুর্গত মানুষেরা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছে ফিল্ড হাসপাতাল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এই হাসপাতাল গঠন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (২৫ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

শ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলায় কাজ করছে এই হাসপাতাল। এর মধ্যে ফেনীতে বৃহৎ পরিসরে কাজ করছে ১২টি টিম। তা ছাড়া বন্যাদুর্গত অন্যান্য এলাকাতেও এই হাসপাতাল পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের।

চলতি ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনী জেলা। অতিবৃষ্টি আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পানিতে ডুবেছে জেলার প্রায় সব কিছুই। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার প্রায় আট লাখ মানুষ। এমনকি পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডুবেছে জেলা সদর হাসপাতালও।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে ফেনীর উদ্দেশ্যে প্রথম মেডিকেল টিম রওনা হয়। রোববার দুপুর থেকে কার্যকম শুরু করে ফিল্ড হাসপাতাল। এরপর রোববার রাতে ঢাকা থেকে আরও দুটি টিম যায় নোয়াখালী ও কুমিল্লায়। আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আজ রাতে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে একটি টিম যাওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ফেনীতে প্রথম দিনে একটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলেও সোমবার বেড়েছে এর পরিসর। ইতোমধ্যে দুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছে ১২টি টিম। এসবের সমন্বয় করছেন ডা. এস. এম. মামুন ও ডা. মিনহাজুল আবেদিন।

জানতে চাইলে ফিল্ড হাসপাতালের অন্যতম সমন্বয়ক ডা. মামুন আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি, সাথে ওষুধ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাতে কিছু চিকিৎসক নিয়ে আমরা ঢাকা থেকে ফেনী আসি। এখানে আরও কিছু চিকিৎসক আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন। আজকে মোট ১২টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে হাসপাতাল পরিচালনা করছে।'

বলেন, ‘সবমিলিয়ে ১২টি টিমে প্রায় ৭০ জন কাজ করছেন। এর মধ্যে চল্লিশের অধিক চিকিৎসক, বেশ কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থী, নার্স এবং স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন।’

দুইদিনে কয়েক হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার কথা জানিয়ে ডা. এসএম মামুন বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা সেন্টারেই সেবা দিয়েছি। ওই সময়ে প্রায় ৩৭৫ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। আজকে আমাদের চিকিৎসার পরিধি বেড়েছে।’

স্বাভাবিকভাবেই বন্যাদুর্গতদের মধ্যে চর্মরোগ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানান এই চিকিৎসক। বলেন, দ্বিতীয়ত রয়েছে বাচ্চাদের অসুখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সর্দি-জ্বর আর কাশি।

ফিল্ড হাসপাতালের এই সমন্বয়ক বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া বেশি কিছু দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। কিন্তু জেলার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় অনেককেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

‘গতকাল একজন রোগীকে আমরা পেয়েছিলাম, তিনি স্ট্রোক করেছিলেন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা তো সিটি স্ক্যান না করে কনফার্ম করার সুযোগ নেই। চিকিৎসারও সুযোগ নাই। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভালো চিকিৎসার জন্য পাঠাই’উল্লেখ করেন তিনি।

জানা গেছে, ফেনী সদর হাসপাতাল পানিবন্দি থাকায় চিকিৎসাসেবা আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোও বন্ধ। ফলে যাদের ক্ষেত্রে উচ্চতর চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফিল্ড হাসপাতালের এই চিকিৎসক বলেন, ‘মানুষের অসহায়ত্ব দেখে সীমিত সেটাপে ওষুধ আর ডাক্তার নিয়ে আমরা চলে এসেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আরও কিছু ম্যানেজ করার জন্য। কিন্তু সম্ভব হয়নি। বন্যাদুর্গত এলাকায় তা সম্ভবও হয় না। কারণ ভালো চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু সাপোর্ট লাগে, দুর্গত এলাকায় যার সুযোগ নেই।’

এনএআর/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক