শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের ‘লংমার্চ টু বিএমডিসি’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের ডিপ্লোমা মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার হিসেবে বিবেচনা করার প্রতিবাদে লংমার্চ টু বিএমডিসি কর্মসূচি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।
আজ বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় সাদা অ্যাপ্রোনে কানায় কানায় ভরে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। অধিকার আদায়ে সারাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিজয়নগরের বিএমডিসি অফিসের সামনে তাদের কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা অবস্থান নেওয়ায় সংঘর্ষ এড়াতে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
অন্যদিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের অবস্থান এবং চিকিৎসকদের কর্মসূচির খবরে অফিসে আসেননি বিএমডিসির কর্মকর্তারা।
সমাবেশে সাপ্পোরো মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুল আমীন বলেন, ‘চিকিৎসক শুধু পরিচয় দেওয়ার বিষয় না, এটা যোগ্যতার বিষয়। যাদের এ যোগ্যতা নেই তারা চিকিৎসক হিসাবে পরিচয় দিতেই পারে না। টেকনোলজিস্টরা সহায়ক। তারা কোনোক্রমেই চিকিৎসক না।’
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘গত তিন তারিখে এখানে স্বৈরাচারের দোসররা দাঁড়িয়েছিল। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে৷ শান্তি সমাবেশে স্বাচিপের চিকিৎসকরা আমাদের নিয়ে বিষোদগার করেছিল। তারা বিজয়ী হলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলা হতো। সুতরাং তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে৷’
শহীদ মিনারের সমাবেশে চিকিৎসকরা বলেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ব্যতীত অন্য কোনো ডিগ্রিধারীদের ডাক্তার পদবী ব্যবহারের সুযোগ নেই। এটি সংসদে পাশকৃত আইন। বিএমডিসির কোনো কর্মকর্তা চাইলেই এই আইন পরিবর্তন করতে পারেন না। চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএমডিসির ওয়েবসাইটে বিএমএফের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে বিএমডিসির রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্যরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
তারা বলেন, আমরা বিএমডিসির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাই। কিন্তু তারা অফিসে আসেননি। চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এড়াতেই বিএডিসি তাদের কার্যালয় বন্ধ করে করে রেখেছে। তাদের এ আচরণকে নাটক ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রসঙ্গত, বিএমডিসি ম্যাটস, ডিএমএফ এবং এলএমএফ পাশ করা মেডিকেল সহকারীদের ডিপ্লোমা মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের। এর প্রতিবাদেই তাদের এই কর্মসূচি।
সমাবেশ থেকে বিএমডিসিকে দালালমুক্ত করার ঘোষণাও দেওয়া হয়। এ সময় বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। যেমন- এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার করা যাবে না, স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার লক্ষ্যে ডাক্তার ব্যতিত স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করতে হবে, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডাক্তার দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ফার্মেসি ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না, বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে, অভিজ্ঞতার আলোকে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে, বিএমডিসি ব্যতিত ভুল চিকিৎসা কেউ বলতে পারবে না, বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে ইত্যাদি।
এনএআর/
-
১৮ নভেম্বর, ২০২৫
-
০৯ নভেম্বর, ২০২৫
ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারে বিএমডিসির শোকজ
নোটিশ হাতে পেলে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন ডা. জাহাঙ্গীর
-
০৫ নভেম্বর, ২০২৫
-
১৯ অগাস্ট, ২০২৫
কার্যক্রম বন্ধের দাবি
বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়া রোগী দেখছেন ভারতীয় বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞরা: এফএসএসবি
-
১৫ জুলাই, ২০২৫
চিকিৎসায় অবহেলা ও অনৈতিক সুবিধা
স্বপ্নীলসহ ১২ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন স্থগিতে প্রজ্ঞাপন জারি
-
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
১০ জানুয়ারী, ২০২৩
-
২৭ ডিসেম্বর, ২০২২