০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:২৮ পিএম
ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারে বিএমডিসির শোকজ

নোটিশ হাতে পেলে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন ডা. জাহাঙ্গীর

নোটিশ হাতে পেলে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন ডা. জাহাঙ্গীর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ হাতে পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেবেন আলোচিত চিকিৎসক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির। কারণ বিএমডিসির অভিযোগ করা ডিগ্রি তিনি ব্যবহার করছেন না। 

সম্প্রতি বিএমডিসির পাঠানো শোকজের বিষয়ে মেডিভয়েসে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির এসব কথা বলেন।

জানতে চাইলে তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি আগে নোটিশ পাই ... । আমার সামনে আমার ব্যক্তিগত আইনজীবী বসে আছেন। নোটিশ পাওয়ার পরে দেখবো, তারা কীভাবে নোটিশটা দিয়েছে, এর কোনো প্রমাণ আছে কি-না, প্রমাণভিত্তিক করেছে কি-না। যিনি অভিযোগ করেছেন, কিসের ভিত্তিতে করেছেন, এ বিষয়ে বিএমডিসির কাছে জানতে চাওয়া হবে। যদি দেখা যায়, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তারা শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে, তাহলে এ ব্যাপারে যত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা নেওয়া হবে। কারণ এটা ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।’

ভিডিও বার্তায় ডা. জাহাঙ্গীর কবির জানান, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০০ সালে আমি এমবিবিএস পাস করেছি, এটা আমি সব সময় বলি।

এতে দেখা যায়, প্রেসক্রিপশন উঁচিয়ে তিনি বলছেন, ‘এটা বহু লোকের কাছে আছে, কারণ আমি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছি। আজকেও অনেকগুলো রোগী দেখেছি। আমার চিকিৎসাপত্রে শুধু এমবিবিএস ডিগ্রি আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া আছে।’

ডা. জাহাঙ্গীর কবির জানান, মেডিভয়েসে সংবাদ প্রকাশের পর শোকজের বিষয়ে তিনি জানতে পারেন। তবে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। কারণ এর সত্যতা কতটুকু, এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন। কারণ শোকজ নোটিশ তখনো হাতে পাননি তিনি।

যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিএমডিসি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানত আমি চিকিৎসাপত্রে কখনো এফসিপিএস লিখি না। এটি একটি ভুয়া ও বানোয়াট তথ্য। হতে পারে, অনেক ভুয়া পেজ আছে আমার নামে। প্রতারক চক্র বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি করে, আমার ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে এবং সেখানে তারা নানা বাহারি ডিগ্রি আমার নামের পাশে জুড়ে দেয়। বিএমডিসির উচিত, কাউকে কোনো সংবাদ দেওয়ার আগে, কোনো চিঠি পাঠানোর আগে বা কোনো নোটিশ জারি করার আগে এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা।’

ভিডিও বার্তায় তিনি তাঁর দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু আমি বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তাই আপনাদেরও সতর্ক করছি। অফিসিয়ালি শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো এবং প্রয়োজনে আইনি যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, নেবো।’

শোকজ নোটিশ হাতে পাওয়ার বিষয়ে জানতে শনিবার (৮ নভেম্বর) একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির আহমেদের কাছ থেকে জানা যায়, এখনো তাদের হাতে নোটিশ পৌঁছায়নি।

এদিকে নোটিশ পাঠানোর সত্যতা মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা তাকে শোকজ করেছিলাম। কারণ তিনি যেসব ডিগ্রি অর্জন করেননি, তা ব্যবহার করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এখনকার শোকজ নোটিস পাননি বলে তিনি দাবি করলেও আমাদের কাছে রেকর্ড আছে যে, তাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এতো সময়ে নোটিস তাঁর কাছে পৌঁছানোর কথা। তিনি যদি তা গ্রহণ না করে থাকেন বা এখনো না পৌঁছে থাকে, তার অর্থ এই নয় যে আমরা পাঠাইনি, বরং আমরা পাঠিয়েছি।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) সচিব অধ্যাপক আবুল বাশার মো. জামাল মেডিভয়েসকে জানান, ‘সোশাল মিডিয়াতে যেই ব্যক্তির নামের সাথে এফসিপিএস ডিগ্রির ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই নাম ও ছবির কেউ বাস্তবে এফসিপিএস পাস করেননি। ডা. জাহাঙ্গীর কবির ভিডিও বার্তায় নিজেও বলেছেন, কিছু ভুয়া পেজ আছে, যেখানে তার নামে এসব ডিগ্রি ব্যবহার করছে। যদি এমন হয়, তাহলে এটি ধরার দায়িত্বও তাঁর।’

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়টি বিএমডিসি কোন প্রক্রিয়ায় যাচাই করেছে, তা জানতে শনিবার (৮ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

টিআই/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক