২০ অগাস্ট, ২০২৪ ১০:১৮ পিএম

বিএমডিসির সামনে নারী চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ টেকনোলজিস্টদের বিরুদ্ধে

বিএমডিসির সামনে নারী চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ টেকনোলজিস্টদের বিরুদ্ধে
ভুক্তভোগী ডা. জান্নাতুল মিতু। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সামনে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক ডা. জান্নাতুল মিতুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এই ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন কমিশনার ডা. সালাউদ্দিন আল আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া ছাড়া অন্য কেউ যাতে ডাক্তার পরিচয় দিতে না পারে সে বিষয়ে কথা বলতে আমরা বিএমডিসির রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সাথে দেখা করতে যাই। সাড়ে তিনশ থেকে চারশ চিকিৎসক উপস্থিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দরভাবে এখানে জমায়েত করি। কিন্তু সকালবেলা পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের সিনিয়র শিক্ষক ডা. জান্নাতুল মিতু সেখানে যান। তখন তাকে শারিরীকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে আমরা সেনাবাহিনীকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।’

ডা. সালাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘আমাদের দাবি যৌক্তিক সংস্কার। রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ডাক্তার ছাড়া ম্যাটস, ডিএমএফ এবং এলএমএফ পাশ করা কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না। একইভাবে ডেন্টিস্টদের মধ্যে কোয়াক সমস্যা চলছে। তাদের কাজের পরিধি সীমিতকরণ, এটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মুখ খুলে যেন সবাই কথা বলতে পারে, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি যেন প্রসার করতে না পারে সে বিষয়টা নিয়েই আমরা এসেছিলাম। আমরা রাস্তায় রেজিস্ট্রার মহোদয়কে স্মারকলিপি দিয়ে চলে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি অফিসে আসেননি। তাই স্মারকলিপি দিতে পারিনি। সকাল থেকে আইএইচটি, ম্যাটসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সহকারীরা অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি অফিসে আসতে পারেননি।’

ডা. সালাউদ্দিন আল আজাদ আরও বলেন, ‘কাউন্সিল জব ডেস্ক্রিপশন ঠিক মতো করবে, কোর্টে যে মামলাটা ছিল তাতে কাউন্সিল আরও শক্তভাবে সহযোগিতা করলে এই জিইয়ে রাখা সমস্যাটার যেমন সমাধান হবে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাটাও হবে। আর একটা ব্যাপারে আমরা কোনো কমপ্রোমাইজ করব না আগেই বলে দিয়েছি, এমবিবিএস বা বিডিএস রেজিস্ট্রার্ড কলেজ থেকে পাশ করে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ছাড়া বাংলাদেশের কোথাও কেউ ডাক্তার কথাটা লিখতে পারবে না। এ বিষয়ে আলোচনার কোনো সুযোগই নাই। বাকি যে বিষয়গুলো- তারা কী কাজ করতে পারবে, কী পারবে না তা সরকার ঠিক করবে।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মারধরের শিকার হওয়ার বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায় ডা. জান্নাতুল মিতুকে। ওই ভিডিওতে অভিযোগ তুলে ডা. মিতু বলেন, ‘তারা আমার বুকে পা দিয়ে লাথি দিয়েছে। ওড়না টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলটা ভেঙেছে। আমাকে বলছে, তোকে আজকে খুন করে ফেলব। সবচেয়ে ব্যাথা লাগছে হাটুতে। রড দিয়ে মেরেছে। টানতে টানতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়।’

আক্রমণকারীদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন ডা. জান্নাতুল মিতু। তবে এ বিষয়ে টেকনোলজিস্টদের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল