পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান দুই চিকিৎসক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের দুই চিকিৎসক। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. কবিরুল ইসলাম রুবেল ও গাজীপুরের তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সজিব সরকার।
জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই বিকেল ছয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ডা. কবিরুল ইসলাম রুবেল রাজধানীর আদাবরের নিজ বাসার সামনে প্রাণ হারান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বাসার সামনে হট্টগোল শুনে নিচে আসেন ডা. রুবেল। ওই সময়ে মানুষকে লক্ষ্য করে এলো-পাথারি গুলি করতে থাকে পুলিশ। সেখানে প্রায় ৫টি গুলি লাগে ডা. রুবেলের শরীরে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। পরে সড়কে থাকা মানুষ তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে ডা.কবিরুল ইসলাম রুবেলের বন্ধু ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেরাজুস সালেকীন মেডিভয়েসকে বলেন, দুদিন ধরে ডা. রুবেলকে খুঁজছিল পরিবার। ফোন বন্ধ এবং তাঁকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন হাসপাতালেও খবর নেওয়া হয়। পরে তাঁর লাশ শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মর্গে পাওয়া যায়।
ডা. কবিরুল ইসলাম রুবেল স্ত্রী, একমাত্র কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫২ বছর।
ডা. সজিব সরকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর চাচাতো ভাই ডা. অনিকুর রহমান অনিক গত ২৭ জুলাই মেডিভয়েসকে জানান, ডা. সজিব আর তিনি ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়াশোনা করতেন। ছোট ভাইকে নিয়মিত উত্তরা থেকে বাসায় নিয়ে আসতেন তিনি। তেমনিভাবে সেদিনও উত্তরায় অধ্যয়নরত ছোট ভাইকে আনতে নরসিংদী থেকে ছুটে আসেন ডা. সজিব।
ডা. অনিক বলেন, ভাইকে নিয়ে ফেরার পথে বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের দিকে এক ক্ষুদেবার্তায় ডা. সজিব তাঁকে জানান, পুলিশ তাঁর কাছাকাছি রয়েছে। তাই নিরাপদে ফিরতে সবার দোয়া চান।
‘সাথে সাথে আমি মুঠোফোনে কল এবং বার্তা পাঠাই। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ঠিক এক ঘণ্টা পরে একজন ফোন ধরে জানালো, ডা. সজিবের লাশ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে এবং পুলিশের গুলিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে’—যোগ করেন ডা. অনিক।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ডা. সজিবকে পেটে লাথি দেওয়া হয়েছিল। আঘাতের তীব্রতা সইতে না পেরে বসে পড়েন তিনি। আর এই অবস্থায় এক ফিট দূরত্বের মধ্যে উপর থেকে তাকে গুলি করা হয়। উপর থেকে নিচ অ্যাঙ্গেলে একটা গুলি করা হয়। গুলিটা হার্টে লেগে ডান দিকের স্কাপুলার (কাঁধের হাড়) নিচে দিয়ে বের হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডা. সজিব গুলি খাওয়ার এক মিনিটের মধ্যে মারা গেছেন।’
ডা. সজিব সরকারের বাড়ি নরসিংদী সদরের জেলখানা মোড় এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ডা. সজিব তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেলের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন।
ডা. সজিব সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের লেকচারার ছিলেন।
-
০৪ মে, ২০২৬
-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
২০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
২৬ মার্চ, ২০২৬
-
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
-
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
-
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬