সলিমুল্লাহ মেডিকেলে অধ্যক্ষের রুম থেকে বের হয়ে হামলার অভিযোগ
আবু নাঈম মনির: রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় চালানো এ হামলায় ২০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের ৫-৭ জনের অবস্থা গুরুতর।
এর আগে দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। পরে সন্ধ্যায় হামলাকারীদের বিচার চাইতে অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে তাঁর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সলিমুল্লাহ মেডিকেলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন। কিছু সময় পর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চেয়ারের পায়া ও রড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মেডিকেল কলেজটির শিক্ষার্থীদের ফেসবুক আইডিতে এমন একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ হামলায় শিক্ষার্থীদের ২০ জনের অধিক আহত হন, যাদের মধ্য ৫-৭ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের তীব্র সমালোচনা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মেডিভয়েস প্রতিবেদকের যোগাযোগ হয়। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ছয়-সাত দিন হলো দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখনো ক্যাম্পাসের কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। অভিযোগ পাওয়ার পর মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যেই ঘটনা ঘটে গেল। পুলিশ ডাকলেও আসেনি। পুলিশ বলেছে, তাদেরকে দেখলে শিক্ষার্থীরা ক্ষেপে যায়।’
আপনার কক্ষ থেকে বের হয়ে হামলার অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা—এমন প্রসঙ্গ আনলে তিনি বলেন, ‘প্রথম হামলায় মাথায় আঘাত পাওয়া মেয়ে শিক্ষার্থীর বিচার দাবি করছিল তারা। তিন-চারটি দাবি দিয়েছিল। আমি তাদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের নাম নিয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলেছি, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে বিচারের বিষয়ে আলোচনা হবে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর এক পর্যায়ে কারও উসকানিতে দুই-একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারতে রুমে ঢুকে গেলে ওরা হামলা চালায়।’
তাহলে তারা অস্ত্র পেলো কোথায়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষই আমার কক্ষে আসে। ছাত্রলীগ সংখ্যায় কম ছিল। যখন উত্তেজনা দেখা দেয়, তখন তারা উপাধ্যক্ষের কক্ষে ছিল। ওখানে রাখার কারণ দুই পক্ষকে বিচ্ছিন্ন রাখা, যাতে তারা মুখোমুখি হতে না পারে। সেখানে ১৫-২০ জন শিক্ষক ছিলেন। এই বেষ্টনির মধ্যেই তারা ছিল। কোথা থেকে যে হুট করে অস্ত্র নিয়ে আসলো।’
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা ও হুমকিতে মঙ্গলবার থেকেই হল ত্যাগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের দুই দফা হামলায় অন্তত ৬-৭ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, আন্দোলনরত মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাস থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের ওপর প্রথম হামলা হয়। এরপর তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তখন দ্বিতীয় দফায় সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় এক নারী শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায়।
আহতদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নারীদের ছাত্রাবাসে ঢুকে আরও ভয়াবহ হামলা এবং যৌন হয়রানির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এরপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত অভিযোগে সাতজন হামলাকারীর বিচার দাবি করা হয়।
বিচারের দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়ার পর তৃতীয় দফায় হামলা হয় শিক্ষার্থীদের ওপর।
হামলায় যেসব অভিযুক্তদের বিচার চাওয়া হয়েছে তারা হলেন—মেডিকেল কলেজের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তন্ময় দাস, শাকের আহমেদ ও সাব্বির আহমেদ, ৪৫তম ব্যাচের সাদেকুল ইসলাম ও গোলাম রসুল জয়, ৪৪তম ব্যাচের দুর্জয় পাল ও শাফিনাজ হাসান তালুকদার, ৪৯তম ব্যাচের জিহাদুল ইসলাম নিশান ও সাফওয়ান আকাশ এবং আনিসুর ডি৯।
তারা সবাই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘পাস করে যাওয়ার পরও যারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করছে না, তাদের হলে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাদেরকে হল থেকে বের করতে হবে। মেয়েদের হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এমইউ/
-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২০ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৬ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৫ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৮ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৪ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০২ অগাস্ট, ২০২৪