০৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০৮:৩৩ পিএম

‘প্রধানমন্ত্রী চোখ দেখান দেশের হাসপাতালে, আর এমপিরা সিঙ্গাপুরে’

‘প্রধানমন্ত্রী চোখ দেখান দেশের হাসপাতালে, আর এমপিরা সিঙ্গাপুরে’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের সংসদ সদস্যরাও যদি নিজ এলাকায় চিকিৎসা নেন, তাহলে সাধারণ মানুষরা স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফিরে পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে বাংলাদেশ স্মার্ট ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ নেটওয়ার্ক (বাসূন) আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় চোখ দেখাতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যান। আর আমাদের এমপিরা সামান্য কিছু হলেই সিঙ্গাপুর চলে যান। এভাবে তো দেশের চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা আসবে না। তাদের চিকিৎসা নিতে হবে নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালগুলোতে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এমপিরা যদি তাদের নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত যান এবং চিকিৎসা নেন, তাহলে দেশের চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অবশ্যই ফিরে আসবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দেশে তো এখন বাইরে থেকেও রোগী আসে। নেপাল-ভুটান থেকে চিকিৎসা নিতে আসে। কিছুদিন আগেও ভুটান থেকে এক রোগী বার্ন ইনস্টিটিউটে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। নেপাল ও মালদ্বীপ আমাদেরকে এসে রিকোয়েস্ট করে, আমরা যেন আমাদের স্বাস্থ্য সেবাটা তাদের প্রতি বাড়িয়ে দিতে পারি। তার মানে আমাদের চিকিৎসকদের মেধা অন্যদের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। আমরা চাইলেই স্বাস্থ্যসেবায় ভালো কিছু করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর মনে হয়েছিল যে, আমি এক মহাসমুদ্রে পড়ে গিয়েছি। এখান থেকে উঠে দাঁড়ানো আমার পক্ষে অনেকটাই কঠিন। তবে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আপনাদের সহযোগিতামূলক নানা কর্মকাণ্ডে এখন আমার মনে হচ্ছে, এই মহাসমুদ্র থেকেও আমি উঠে দাঁড়াতে পারব। আমার বিশ্বাস আমরা সবাই মিলে যদি একসাথে কাজ করি, বিরাট এই সাগর থেকে আমরা উঠতে পারব এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আশা নিয়ে আমাদের দুইজনকে (মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বসিয়েছেন। আমরা যদি ফেইল করি, তাহলে আমাদের আর যাওয়ার জায়গা নেই। তাই আমাদেরকে পাস করতেই হবে। জন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।’

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘চিকিৎসকদের নানা ঘটনা আমার কানে সবসময় আসে। সিলেটের একটি উপজেলায় আমার এক চিকিৎসক ভাই তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসে টিভি দেখছিল, এরপর হঠাৎ করেই ছাদ ভেঙে তার মাথার ওপর পড়ে। এখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে? সবাই যে বলে আমার চিকিৎসকরা গ্রামে থাকে না, গ্রামে থাকার জন্য তাদেরকে আমরা কী ব্যবস্থা করে দিয়েছি, সেটি কিন্তু আলোচনায় আসে না। তাদের তো একটা থাকার ভালো ব্যবস্থা করে দিতে হবে, তাহলেই তো সে গ্রামে গিয়ে থাকবে। মন্ত্রী হিসেবে আমাকে যেমন চিকিৎসকদের সুরক্ষা দিতে হবে, রোগীদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করতে হবে। আমাকে এই দুটোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’

দক্ষ চিকিৎসক ও শিক্ষকের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গাইনোকোলজিতে এতো পরিমাণ মানুষ, তাদের প্রমোশন দেওয়ার জায়গা নেই। কিন্তু বেসিক সাবজেক্টে আমাদের লোক নেই, অ্যানেস্থিসিওলোজিতে আমাদের পর্যাপ্ত লোক নেই। কিন্তু অভাব নেই শুধু গাইনোকোলজিতে। তাই আমাদেরকে এভাবে চলতে থাকলে হবে না। যে বিষয়গুলোতে আমার সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্যখাত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক