নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ধার করা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট দিয়েই ৫ শতাধিক অপারেশন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রায় চার লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নানা সংকট সত্ত্বেও ৫ শতাধিক অপারেশনের মাইলফলক অর্জন করেছে হাসপাতালটি। হাসপাতালের নিজস্ব অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট না থাকলেও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ধার করে এনে সপ্তাহে একদিন অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এখানকার চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) মেডিভয়েসের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. মাহমুদুর রশীদ।
হাসপাতালের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সব সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত এত দূর আসার পেছনে পুরো একটা টিম একসাথে কাজ করেছে। অনেক দিন ধরে এই টিমটাকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ওটি বয়, ক্লিনার থেকে শুরু করে সার্জন পর্যন্ত সবার পারস্পরিক বোঝাপড়া এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অপরেশন থিয়েটার প্রস্তুত করার জন্য সবার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. কাজী শরীফুর রহমান সজীব ও অ্যানেস্থেশিয়ার কনসালট্যান্ট ডা. আফরোজা শাহীন নিষ্ঠার সাথে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল, ডা. মাহমুদুর ও ডা. মাহবুব সব কাজে আন্তরিক সহযোগিতা করছেন। এ ছাড়া গাইনি কনসালটেন্ট ডা. লায়লা কামরুজ্জামান পান্না সিজারিয়ান সেকশন করে থাকেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্ঠায় এ রকম একটা টিম দাঁড় করাতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় অনেক সংকটের মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট এনে অপারেশন করাতে হয় জানিয়ে ইউএইচএফপিও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে কোনো অ্যানেস্থেশিয়ার কনসালট্যান্ট নেই। আমরা পার্শ্ববর্তী ইশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ধার করে এনে অপারেশন পরিচালনা করছি। তিনি যেন এখানে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছি। মেজর অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মেশিন আমি নিজ উদ্যোগে নান্দাইল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের ত্রিশাল থেকে এনেছি। বিভিন্ন সময় মেশিন নষ্ট হয়ে গেলে নিজ উদ্যোগে অনুদান সংগ্রহ করে সেগুলো ঠিক করেছি, তবু অপারেশন বন্ধ রাখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের বাইরে থেকে অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট এনে অপারেশন করতে হয়, তাই সপ্তাহে মাত্র একদিন অপারেশন করা সম্ভব হয়। তিন মাস আগে থেকে অপারেশনের জন্য সিরিয়াল নেওয়া হয়। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সিরিয়াল ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে যদি কেউ জরুরিভাবে অপশেন করাতে চান, তাহলে বৈকালিক চেম্বারের মাধ্যমে সেটাও সম্পন্ন করা হয়। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ছাড়া জেনারেল সার্জারির সকল অপারেশন এখানে হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে আমরা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি চালু করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।’
অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট চাওয়া হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে একজন অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট দেওয়া হয়েছিল। তবে উনি এখানে যোগ দেওয়ার আগেই চতুরতার আশ্রয় নিয়ে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন। এরপরে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে আমরা বারবার কর্তৃপক্ষকের নজরে বিষয়টি আনার চেষ্টা করেছি।’
ডা. মো. মাহমুদুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের অপারেশনগুলো এখানে করান, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। যে অপারেশন বাইরে করতে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাগতো সেটা এখানে ফ্রি করাতে পারছে। এ ছাড়া স্থানীয় সবার থেকেই আমরা আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। যেমন উদাহারণস্বরূপ; যখন অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে তখন লোডশোডিংয়ের সময় হলেও বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে হাসপাতালপ্রধান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি অনেক পুরোনো। ডিজিটাল যুগে এসে এই অবকাঠামো দিয়ে আসলে চলে না। আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে বিষয়টি বারবার তাগিদ দিয়েছি। কিন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া এখানে চতুর্থশ্রেণীর কর্মচারীরর সংকট রয়েছে, বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী-আয়া নেই বললেই চলে। আমরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে লোক রেখে আপাতত কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিষ্কার না থাকলে এটা ভালো দেখায় না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট না থাকার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে একজন অ্যানেস্থেশিয়ার কনসালট্যান্ট দেওয়া হবে। কনসালট্যান্ট নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজনকে রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করতে বলা হয়েছে।’
কর্মচারী সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে খুব শিগরিরই লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে।’
এসএস/এএনএম
-
২৩ মে, ২০২৬
-
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
২৯ জুন, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১০ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৬ জুন, ২০২৪
-
০৬ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৫ এপ্রিল, ২০২৪