গবেষণায় নকল প্রতিরোধ
বিএসএমএমইউতে দেশের প্রথম প্ল্যাজারিজম চেকার পদ্ধতি চালু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নকল প্রতিরোধের মাধ্যমে গবেষণার মান বৃদ্ধি ও মৌলিকত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্ল্যাজারিজম চেকার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ দেশের প্রথম প্ল্যাজারিজম শনাক্তকরণ এ সফটওয়ার উদ্বোধন করেন।
এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষাধিক জার্নাল ও লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া বিভিন্ন আর্টিক্যাল, গবেষণাপত্র ও থিথিসের কপি করার বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে। ফলে গবেষণার মৌলিকত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমান নিশ্চিত করা সহজতর হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের প্ল্যাজারিজম শনাক্তকরণ সফটওয়ার ব্যবহৃত হচ্ছে, বিএসএমএমইউতেও একই ধরনের পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা তাদের থিথিসের যে সফট কপি জমা দিবেন তা প্ল্যাজারিজম চেকার ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হবে। ওই পরীক্ষায় তাদের জমা দেওয়া থিথিসের মান নিশ্চিত হলেই তারা পরীক্ষা দিতে পারবেন। প্ল্যাজারিজম চেকারের চর্চা গবেষণার মান ও গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ানো এবং গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এত বড় সাহস দেখায়নি। এ উদ্যোগের ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেভেল অব এক্টিভিটি, লেভেল অব রিসার্চ স্টান্ডার্ড হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গবেষণার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষকদের থিসিস অ্যাওয়ার্ড, গবেষণা অ্যাওয়ার্ড প্রচলন করা হয়েছে। গবেষণার অনুদানের পরিমাণ অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। মানসম্পন্ন গবেষণা নিশ্চিত করতে ও চৌর্যবৃদ্ধির ঠেকাতে এ সফটওয়্যার বেশ কার্যকর হবে। কোনো গবেষক এখন আর্টিকেল জমা দিলে তা বারবার চেক করে দেবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক পাবলকি হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফ হক খান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. পবিত্র কুমার দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালুকৃত এ সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য গবেষকদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে।
এমইউ/