সিলেটে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম পিত্তথলির অস্ত্রোপচার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেটে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম পিত্তথলির পাথর অপসারণে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কৃতিত্বপূর্ণ এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. মঈনুল আহসানের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখ দেখে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. মো. মঈনুল আহসান মেডিভয়েসকে বলেন, গত মাসের ১৬ তারিখ ছিল হাসপাতালে শল্যচিকিৎসা কার্যক্রমের একটি বিশেষ দিন। এই দিনে সিলেট জেলার উপজেলা পর্যায়ে প্রথম পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচার (Open cholecystectomy) করা হয়। এর মাধ্যমে সিলেট জেলায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম জেনারেল সার্জারিতে এত বড় অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হলো।
তিনি বলেন, ডা. মো. ইউসুফ জামিলের (জুনিয়র কনসালট্যান্ট, জেনারেল সার্জারি) নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ডা. মো. কামরুল গাফফার (জুনিয়র কনসালট্যান্ট, এনেস্থেশিয়া), ডা. অনামিকা নাথ (মেডিকেল অফিসার)। এতে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা করেন নার্সিং সুপারভাইজার শিপা বেগম, শ্রীদাম মালাকার (ওটি ইনচার্জ ), আয়েশা খাতুন (সিনিয়র স্টাফ নার্স), হীরক দাস (ওটি এটেন্টডেন্ট), ডা. রুবাইয়া আহমেদ (আবাসিক মেডিকেল অফিসার), ডা. আবু সালমান (মেডিকেল অফিসার)।
পিত্তথলির পাথর অপসারণের সাফল্যের ফলে দক্ষিণ সুরমার পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলার রোগীরাও উপকৃত হবেন বলে জানান ডা. মো. মঈনুল আহসান। বলেন, আগে পিত্তথলির পাথর অপসারণে জন্য রোগীদেরকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিওমেক) যেতে হতো। যদিও সেখানে অস্ত্রোপচারের খরচ নেই, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে করতে গেলে অপারেশনের আনুসাঙ্গিক খরচ এবং এক বা একাধিক স্বজনের থাকা-খাওয়া মিলিয়ে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যেতো। এখন বাড়ির কাছে এই সুযোগ পাওয়ায় রোগীদের খরচ এবং ভোগান্তি দুইই কমেছে। শুধু কিছু ওষুধ ও সার্জিক্যাল উপাদান নিজ খরচে কিনতে হয়।
দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও বলেন, ‘এতো বড় একটি সুযোগ পেয়ে উপজেলার অধিবাসীরা খুব খুশি। জনগণ উপকৃত হচ্ছে বলে এ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবও খুব খুশি। কারণ বাইরে গিয়ে এ চিকিৎসা নিতে রোগীদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হতো।’
এখানে সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতাল ৫০ শয্যার অনুমোদন পেলেও সে অনুপাতে জনবলের পদ সৃজন হয়নি। সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়ার পোস্ট আছে। কিন্তু আই, ইএনটি, অর্থোপেডিক্সসহ আরও ছয়টি কনসালন্টেন্ট পদ সৃষ্টি হয়নি। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী, যথা—পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয়, আয়ার স্বল্পতা চলছে। বিদ্যমান কাঠামোতেই সেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জনবল পেলে সেবার মান ব্যাপক বেড়ে যাবে।’
ডা. মঈনুল আহসান বলেন, অস্ত্রোপচারের কথা শুনে এরই মধ্যে আরও রোগী আসা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোগী বাছাইয়ের পর অধিকতর সংকটাপন্নদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। বাকিদের প্রস্তুত করার জন্য রাখা হচ্ছে।
সপ্তাহে চারজন রোগীর পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে বড় অস্ত্রোপচার সপ্তাহে দুই দিন করা হয়। তবে হার্নিও প্লাস্টি, হার্নিওরেক্টির ও লাইকোমাসহ ছোট অস্ত্রোপচারগুলো নিয়মিত হচ্ছে। সে হিসাবে প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রোপচার হচ্ছে।
সিজারিয়ান সেকশন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ান সেকশন হয় না। এ ছাড়াও এপেন্ডিসেক্টমির অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন।